ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরবরাহ বাড়লেও বাজারে সবজির দাম বাড়তি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। একশো ছোঁয়নি এমন সবজি এখন হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়স; যা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাকি সবজির মধ্যে মধ্যে ২ বা ৩ রকমের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে রয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম কমেনি। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দরদামের এই চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সজিনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৫০ টাকা এবং দেশিটা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে শীতকালীন টমেটো প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি মিডিয়াম সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কাঁচা আম প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে বাজারে দেখলাম অতিরিক্ত দামে সব সবজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, দুই এক রকমের সবজি তাও ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস মুরগির দাম তো বেশিই, এর মধ্যে যদি সবজিরও দাম এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষ কী খাবে? কল্পনা করা যায়, একটি সবজির আইটেমের কেজি ১০০ টাকা! আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও, এখন কিনতেছি আধা কেজি বা আড়াইশো গ্রাম। বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, সবজির বাজারে কোন মনিটরিং কখনো দেখলাম না। যদি মনিটরিং হতো তাহলে অন্তত যে যার মতো করে এতটা দাম বাড়িয়ে রাখতে পারত না।

সবজির বাড়তি দামের বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেল কিছুদিন যাবৎ সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হলো পরিবহন খরচ বেড়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় সবজি আনতে অতিরিক্ত টাকা লাগছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সব মিলিয়ে ঢাকার বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেড়ে গেছে।

রাজধানীর মগবাজার এলাকার‌ আরেক সবজি বিক্রেতা জাহিদুর রহমান বলেন, সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদের ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা ১ কেজি সবজি কিনতেন, সেখানে এখন আধা কেজি, আড়াইশো গ্রাম করে সবজি কিনছেন। এক আইটেমের সবজি আগে যদি ২০ কেজি আনতাম, এখন আমি ১০ কেজি। সব মিলিয়ে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদেরও ব্যবসা, বিক্রি কমে গেছে। নতুন করে সবজি উঠতে শুরু করলে, আশা করা যায় এই দাম আরও কিছুটা কমে আসবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর দেশি মুরগি সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এদিকে, ১৭৫ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে।

রায়ের বাজারে মুরগী বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, রোজার ঈদের পর মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। আমরা ব্রয়লারের কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা বিক্রি করেছি। এই সপ্তাহে কিছুটা দাম বেড়েছে। বর্তমানে ২০০ টাকা খুচরা বিক্রি করছি।

তিনি আরও বলেন, সোনালীর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। বর্তমানে ৩৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি মুরগি তো পাওয়া যাচ্ছে না। পেলে ৭০০ টাকার উপরে বিক্রি করা হয়।

এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ বলেন, আজকে ডিমের তিন রকম দাম রয়েছে। ব্রয়লার বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, ব্রাউন কালারের ডজন ১৫০ টাকা ও সাদা ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুঁড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘আগে যে মাছ ৩০০ টাকায় কিনেছি, এখন সে মাছ ৪৫০ টাকা চাইছে। এভাবে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাবে।’

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে সরবরাহ সংকট থাকায় বাজারে উচ্চ দামের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরবরাহ বাড়লেও বাজারে সবজির দাম বাড়তি

আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। একশো ছোঁয়নি এমন সবজি এখন হাতে গোনা কয়েকটি। এর মধ্যে রয়েছে ঢেঁড়স; যা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বাকি সবজির মধ্যে মধ্যে ২ বা ৩ রকমের সবজির দাম ৮০ টাকার ঘরে রয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম কমেনি। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দরদামের এই চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে করলা কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সজিনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৫০ টাকা এবং দেশিটা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে শীতকালীন টমেটো প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি মিডিয়াম সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা এবং লাউ ৫০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাঁটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। কাঁচা আম প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাফিজ উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে বাজারে দেখলাম অতিরিক্ত দামে সব সবজি বিক্রি হচ্ছে। বাজারে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, দুই এক রকমের সবজি তাও ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস মুরগির দাম তো বেশিই, এর মধ্যে যদি সবজিরও দাম এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো মানুষ কী খাবে? কল্পনা করা যায়, একটি সবজির আইটেমের কেজি ১০০ টাকা! আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও, এখন কিনতেছি আধা কেজি বা আড়াইশো গ্রাম। বিক্রেতারা যে যার মতো করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে, সবজির বাজারে কোন মনিটরিং কখনো দেখলাম না। যদি মনিটরিং হতো তাহলে অন্তত যে যার মতো করে এতটা দাম বাড়িয়ে রাখতে পারত না।

সবজির বাড়তি দামের বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেল কিছুদিন যাবৎ সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। আজকের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হলো পরিবহন খরচ বেড়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় সবজি আনতে অতিরিক্ত টাকা লাগছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সব মিলিয়ে ঢাকার বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেড়ে গেছে।

রাজধানীর মগবাজার এলাকার‌ আরেক সবজি বিক্রেতা জাহিদুর রহমান বলেন, সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদের ব্যবসা অনেকটা কমে গেছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা ১ কেজি সবজি কিনতেন, সেখানে এখন আধা কেজি, আড়াইশো গ্রাম করে সবজি কিনছেন। এক আইটেমের সবজি আগে যদি ২০ কেজি আনতাম, এখন আমি ১০ কেজি। সব মিলিয়ে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে আমাদেরও ব্যবসা, বিক্রি কমে গেছে। নতুন করে সবজি উঠতে শুরু করলে, আশা করা যায় এই দাম আরও কিছুটা কমে আসবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত মাসে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ৩৩০ থেকে ৩৫০০ টাকা। আর দেশি মুরগি সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এদিকে, ১৭৫ থেকে বেড়ে ২০০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে।

রায়ের বাজারে মুরগী বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, রোজার ঈদের পর মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। আমরা ব্রয়লারের কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা বিক্রি করেছি। এই সপ্তাহে কিছুটা দাম বেড়েছে। বর্তমানে ২০০ টাকা খুচরা বিক্রি করছি।

তিনি আরও বলেন, সোনালীর দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে। বর্তমানে ৩৫০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি মুরগি তো পাওয়া যাচ্ছে না। পেলে ৭০০ টাকার উপরে বিক্রি করা হয়।

এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

ডিম বিক্রেতা বজলুর রশিদ বলেন, আজকে ডিমের তিন রকম দাম রয়েছে। ব্রয়লার বড় সাইজের ডিম ১৬০ টাকা, ব্রাউন কালারের ডজন ১৫০ টাকা ও সাদা ১৪০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর ভুঁড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছ কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, ‘আগে যে মাছ ৩০০ টাকায় কিনেছি, এখন সে মাছ ৪৫০ টাকা চাইছে। এভাবে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে মাছ কেনা কঠিন হয়ে যাবে।’

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে সরবরাহ সংকট থাকায় বাজারে উচ্চ দামের প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।