ঢাকা ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজের ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চললে হামলা করবে না ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালীর ওমান অংশ ব্যবহার করে চলাচল করে, তবে ইরান সেখানে কোনো হামলা চালাবে না। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া শর্ত ও দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে, যার উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই তিন দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য ও রাসায়নিক হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই প্রণালীতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ক্রু সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ সংকটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৈশ্বিক চাপের মুখে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকে হরমুজ প্রণালী সচল করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

তবে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি কর্তৃক স্থাপিত জলমাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় প্রণালীটি সম্পূর্ণ মুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি মাইন স্থাপনের স্থানগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত করেনি।

বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী মাইন অপসারণের তৎপরতা শুরু করার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে, যার ফলে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে বা ঢুকতে পারছে না। মাইন অপসারণে ইরান সহযোগিতা করবে কি না, সে বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি তেহরান। তবে তাদের নতুন এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন হরমুজ প্রণালী দ্রুত মুক্ত করার জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজের ওমান অংশ দিয়ে জাহাজ চললে হামলা করবে না ইরান!

আপডেট সময় : ১২:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালীর ওমান অংশ ব্যবহার করে চলাচল করে, তবে ইরান সেখানে কোনো হামলা চালাবে না। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া শর্ত ও দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালীটি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে যুক্ত করেছে, যার উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই তিন দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি পণ্য ও রাসায়নিক হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই প্রণালীতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ক্রু সেখানে আটকা পড়ে আছেন। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ সংকটে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৈশ্বিক চাপের মুখে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকে হরমুজ প্রণালী সচল করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

তবে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি কর্তৃক স্থাপিত জলমাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় প্রণালীটি সম্পূর্ণ মুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি মাইন স্থাপনের স্থানগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত করেনি।

বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী মাইন অপসারণের তৎপরতা শুরু করার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি করেছে, যার ফলে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে বা ঢুকতে পারছে না। মাইন অপসারণে ইরান সহযোগিতা করবে কি না, সে বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি তেহরান। তবে তাদের নতুন এই প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন হরমুজ প্রণালী দ্রুত মুক্ত করার জন্য কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।