ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দু’দিনে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পালিয়েছে আব্রাহাম লিঙ্কন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের প্রতিশোধমূলক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির এই অভিজাত বাহিনী।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এর সদর দপ্তরে বারবার হামলা চালিয়েছে ইরান। নায়েইনি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় ১৬০ জন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘MST’ নামক একটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর এবং যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে দাবি করেছেন নায়েইনি। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। আমেরিকানদের জন্য এই হতাহতের খবর অস্বীকার বা গোপন করা স্বাভাবিক। তবে ইরানের গোয়েন্দা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য হতাহতের এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে একাধিকবার আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। তিনি বলেন, বাহরাইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় ১৬০ মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের নৌবাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরী লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের নৌবাহিনী। নায়েইনি বলেন, এই হামলার পর রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পালিয়ে গেছে।

ইরানে ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আগ্রাসনের জবাবে ইরানি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

নিউজটি শেয়ার করুন

দু’দিনে ৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পালিয়েছে আব্রাহাম লিঙ্কন

আপডেট সময় : ১১:১৯:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের প্রতিশোধমূলক ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে চালানো হামলায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির এই অভিজাত বাহিনী।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েইনি জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ফিফথ ফ্লিট’-এর সদর দপ্তরে বারবার হামলা চালিয়েছে ইরান। নায়েইনি জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলায় ১৬০ জন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছেন। এছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘MST’ নামক একটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নায়েইনি বলেছেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদরদপ্তর এবং যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ইরানের উপকূলীয় জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানি বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে বলে দাবি করেছেন নায়েইনি। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। আমেরিকানদের জন্য এই হতাহতের খবর অস্বীকার বা গোপন করা স্বাভাবিক। তবে ইরানের গোয়েন্দা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য হতাহতের এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

নায়েইনি বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরে একাধিকবার আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। তিনি বলেন, বাহরাইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এক হামলায় ১৬০ মার্কিন সদস্য হতাহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের নৌবাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর এমএসটি কমব্যাট সাপোর্ট জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ রণতরী লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের নৌবাহিনী। নায়েইনি বলেন, এই হামলার পর রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পালিয়ে গেছে।

ইরানে ইহুদিবাদী ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আগ্রাসনের জবাবে ইরানি সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এই ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।