আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ মানুষের উপকার করা: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খালের মাটি কাটার মধ্য দিয়ে সারা দেশে একযোগে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেই কাজ করা, যেগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। তাই আজকে আমরা এখানে এসেছি। সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহাপাড়ায় খাল খনন শেষ হলে এ এলাকার ৩১ হাজার কৃষক পানি পাবে এবং ১২শ হেক্টর জমি সেচের সুবিধা হবে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাল থেকে সুবিধা পাবে।
এসময় তারেক রহমান বলেন, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও বন্যা মোকাবিলা করতেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে, কৃষক ভালো থাকলে মানুষ ভালো থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোর কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামেলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে।’ দেশের জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব কাজই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও, সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকদের জন্য চালু করা হবে ‘‘কৃষক কার্ড’’। আগামী মাস থেকেই এর পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।’ এ বিষয়ে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার নীতি গ্রহণ করছে। বন্যা ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও সরকার কাজ করছে। মৌলিক খাদ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খননের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।’
এসময় তিনি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে যারা বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাল খনন কর্মসূচির মধ্য দিয়েই আজ থেকে দেশ গড়ার নতুন উদ্যোগ শুরু হলো।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
জনসভা শেষে বিকেলে দিনাজপুরের শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শায়িত তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। পরে বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কর্মসূচিস্থল দিনাজপুরে যান তিনি।























মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী টুকুর