ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, ভয়ঙ্কর সেই কালরাত!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাঙালির ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ২৫শে মার্চ মানেই এক বিষণ্ণ হাহাকার আর একইসঙ্গে মাথা নত না করার সুতীব্র দহন। ১৯শে মার্চ ১৯৭১-এর সেই কালরাত্রি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যার এক কালো দলিল। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই দানবীয় অভিযানে নিমিষেই রক্তগঙ্গায় ভেসে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ আর পিলখানার পবিত্র মাটি।

সেদিন মধ্যরাতে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর যখন পাকিস্তানি বাহিনী কামানের গোলা আর মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল একটি জাতির স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা। পিলখানায় পুলিশ আর ইপিআর সদস্যরা যখন প্রথম প্রতিরোধের গুলিটি ছুঁড়েছিলেন, তখন থেকেই সূচিত হয়েছিল মুক্তির নতুন ইশতেহার। এই বিভীষিকার মধ্যেই বেজে উঠেছিল প্রতিরোধের সুর। চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘উই রিভোল্ট’ বলে যে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিল, তা-ই রূপ নিয়েছিল নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে।

আজকের এই দিনে জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব শিক্ষকদের, বুদ্ধিজীবীদের এবং অগণিত সাধারণ মানুষকে, যাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ভোরের সূর্য উদিত হয়েছিল। ২৫শে মার্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়, বরং কোটি প্রাণের হাহাকার আর অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এক অধিকার।

৫৫ বছর পেরিয়ে এসেও এই দিনটি আমাদের চেতনাকে শাণিত করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে সেদিন বীরেরা লড়াই করেছিলেন, তা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়াই হোক আজকের দিনের প্রকৃত শপথ।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আজকের এই দিনে সব শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাগরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসমসাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এই হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না, এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, ভয়ঙ্কর সেই কালরাত!

আপডেট সময় : ১২:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

বাঙালির ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে ২৫শে মার্চ মানেই এক বিষণ্ণ হাহাকার আর একইসঙ্গে মাথা নত না করার সুতীব্র দহন। ১৯শে মার্চ ১৯৭১-এর সেই কালরাত্রি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং বিশ্ব ইতিহাসের বর্বরোচিত গণহত্যার এক কালো দলিল। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই দানবীয় অভিযানে নিমিষেই রক্তগঙ্গায় ভেসে গিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ আর পিলখানার পবিত্র মাটি।

সেদিন মধ্যরাতে ঘুমন্ত বাঙালির ওপর যখন পাকিস্তানি বাহিনী কামানের গোলা আর মেশিনগান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল একটি জাতির স্বপ্নকে অঙ্কুরেই বিনাশ করা। পিলখানায় পুলিশ আর ইপিআর সদস্যরা যখন প্রথম প্রতিরোধের গুলিটি ছুঁড়েছিলেন, তখন থেকেই সূচিত হয়েছিল মুক্তির নতুন ইশতেহার। এই বিভীষিকার মধ্যেই বেজে উঠেছিল প্রতিরোধের সুর। চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘উই রিভোল্ট’ বলে যে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছিল, তা-ই রূপ নিয়েছিল নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে।

আজকের এই দিনে জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেইসব শিক্ষকদের, বুদ্ধিজীবীদের এবং অগণিত সাধারণ মানুষকে, যাঁদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে ভোরের সূর্য উদিত হয়েছিল। ২৫শে মার্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়, বরং কোটি প্রাণের হাহাকার আর অসীম ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এক অধিকার।

৫৫ বছর পেরিয়ে এসেও এই দিনটি আমাদের চেতনাকে শাণিত করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় সাম্য, মানবিক মর্যাদা আর সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন নিয়ে সেদিন বীরেরা লড়াই করেছিলেন, তা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক দেশ গড়াই হোক আজকের দিনের প্রকৃত শপথ।

গণহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে আজকের এই দিনে সব শহীদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাদের অসামান্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই গণহত্যায় পুরো জাতি বাগরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। এ সময় ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং এর অব্যবহিত পরে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসমসাহসী করে তোলে, সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। শুরু হয়ে যায় সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয় গৌরবময় বিজয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এই হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না, এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনো ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, উন্নত-সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।