ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কম, সবজি-ব্রয়লারের দাম কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ২১৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদুল ফিতর পরবর্তী সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শসা, লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও আলুর দাম বেড়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অন্য মুরগির দাম এখনো চড়া রয়েছে। একইসঙ্গে গরু ও খাসির মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা অনেকটা কম দেখা গেছে। পাইকারী বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমতির পথে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও জমে ওঠেনি রাজধানীর বাজারগুলো।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার ৩২০ টাকা, সোনালী ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি কক ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লারের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এর দাম কমেছে। তবে অন্যান্য মুরগির সরবরাহ কম থাকায় দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২শ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১শ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮শ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪শ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব পণ্যের দামেও তেমন পরিবর্তন নেই।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কেজিতে ৪০ টাকা কমে ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কেজিতে ২০ টাকা কমে পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০ থেকে ১শ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ৩০ কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেশি ধনেপাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১শ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২শ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ১শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, ফুল কপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধা কপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে শাকের দাম কিছুটা কমেছে। লালশাক আঁটি ১০ টাকা, লাউশাক আঁটি ২০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালংশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলুর দাম বাড়লেও পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং-মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং বড় মাছ যেমন বোয়াল ও চিতল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাঁচকি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, গত এক সপ্তাহে চাল, আটা, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। মোটা চালের দাম কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে নেমেছে। প্যাকেটজাত আটার দামও কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির দেয়া তথ্যে আরও দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে। পাশাপাশি রসুন ও আদার দামও কিছুটা কমেছে। সবজির মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।

তবে ডালের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ছোট দানার মশুর ডালের দাম কমলেও বড় দানার ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ভোজ্যতেলের দাম গত সপ্তাহে নতুন করে না বাড়লেও আগের তুলনায় কিছুটা বেশি অবস্থানে রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কম, সবজি-ব্রয়লারের দাম কমেছে

আপডেট সময় : ০১:১২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতর পরবর্তী সপ্তাহে রাজধানীর বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম কিছুটা কমেছে। শসা, লেবু ও কাঁচা মরিচের দাম কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও আলুর দাম বেড়েছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও অন্য মুরগির দাম এখনো চড়া রয়েছে। একইসঙ্গে গরু ও খাসির মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা অনেকটা কম দেখা গেছে। পাইকারী বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমতির পথে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। ঈদের ছুটি শেষ হলেও এখনও জমে ওঠেনি রাজধানীর বাজারগুলো।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার ৩২০ টাকা, সোনালী ৩৬০ টাকা এবং পাকিস্তানি কক ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগি আকারভেদে ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, ব্রয়লারের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এর দাম কমেছে। তবে অন্যান্য মুরগির সরবরাহ কম থাকায় দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২শ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১শ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস ৮শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮শ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪শ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব পণ্যের দামেও তেমন পরিবর্তন নেই।

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরলতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কেজিতে ৪০ টাকা কমে ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কেজিতে ২০ টাকা কমে পটল ৬০ টাকা, কচুরমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০ থেকে ১শ টাকা এবং ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ৩০ কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেশি ধনেপাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১শ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২শ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ১শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে শীতকালীন সিম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, ফুল কপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৪০ টাকা, বাঁধা কপি ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে শাকের দাম কিছুটা কমেছে। লালশাক আঁটি ১০ টাকা, লাউশাক আঁটি ২০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালংশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে আলুর দাম বাড়লেও পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা এবং পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মাছের বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং-মাগুর ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং বড় মাছ যেমন বোয়াল ও চিতল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাঁচকি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, গত এক সপ্তাহে চাল, আটা, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। মোটা চালের দাম কমে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে নেমেছে। প্যাকেটজাত আটার দামও কমে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

টিসিবির দেয়া তথ্যে আরও দেখা যায়, দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে। পাশাপাশি রসুন ও আদার দামও কিছুটা কমেছে। সবজির মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সবচেয়ে বেশি কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছে।

তবে ডালের বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ছোট দানার মশুর ডালের দাম কমলেও বড় দানার ডালের দাম কিছুটা বেড়েছে। ভোজ্যতেলের দাম গত সপ্তাহে নতুন করে না বাড়লেও আগের তুলনায় কিছুটা বেশি অবস্থানে রয়েছে।