শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ
- আপডেট সময় : ১২:২৪:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হন তিনি। তার মৃত্যুতে শুধু বিএনপিই নয়, পুরো দেশ গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে বলে মনে করেন প্রবীণ রাজনীতিবিদরা।
প্রতিবছরের মতো এবারও দিনটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো রাজধানীসহ সারা দেশে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে এই দিনটি একই সঙ্গে গভীর শোকের এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন হিসেবে বিবেচিত।
মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন জিয়াউর রহমান। কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার লক্ষ্যে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। তার আমলে অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবাসী জনশক্তি রপ্তানির ভিত্তি তৈরি হয়।
পোশাক খাতের বিকাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নেও তার অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশালের অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ক গঠন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন জিয়াউর রহমান। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তার কূটনৈতিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল বলেও মনে করা হয়।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান কেবল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন, রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তিনি বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারত।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বজনপ্রীতি তাকে কখনো স্পর্শ করতে পারেনি। মৃত্যুর পর দেখা গেছে, এই বিশাল দেশে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল না। তার পররাষ্ট্রনীতি ছিল স্বাধীন এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতো।’
বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বিএনপি গঠনকে জিয়াউর রহমানের অন্যতম অমর কীর্তি উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, একটি দেশপ্রেমিক ও দক্ষ রাজনৈতিক দল ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থায় কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব নয়। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বিএনপি গঠন করেন।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে নিহত হওয়ার পর ঢাকায় তার জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে তার ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই দলটি পরবর্তীতে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।
শাহাদাতবার্ষিকীর দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় ঢাকার জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠের সামনে দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করবেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিবসটি ঘিরে আলোচনা, দোয়া মাহফিল, শ্রদ্ধা নিবেদন ও সামগ্রী বিতরণের মতো ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর ১৬টি স্থানে এই বিতরণ কার্যক্রম চালানো হবে।
এর আগে, সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং সকাল সাড়ে ১০টায় অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হাইকোর্ট মাজারের সামনে আইনজীবীদের আয়োজনে দুস্থদের মাঝে সামগ্রী বিতরণ করবেন রিজভী। একই সময়ে কারওয়ান বাজারে এফডিসির সামনে একটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের।





















জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে: রাষ্ট্রপতি