যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ঠেকাতে সুবিশাল সামরিক কমপ্লেক্স বানিয়েছে চীন!
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত মরুভূমিতে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাইলোর (ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি) কাছে একটি সুবিশাল সামরিক কমপ্লেক্স গড়ে তুলছে বেইজিং। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য প্রথম হামলা থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র সুরক্ষিত রাখতে এবং শক্তিশালী পাল্টা হামলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার যেকোনো আগাম হামলা প্রতিহত করে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই চীনের এই উদ্যোগ।
স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, জিনজিয়াং প্রদেশের হামি পারমাণবিক সাইলোর আশপাশে ৮০টির বেশি কংক্রিটের উৎক্ষেপণ প্যাড এবং তিনটি অষ্টভুজাকার (অক্টাগন) স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই প্যাডগুলো চীনের ভ্রাম্যমাণ মিসাইল লঞ্চার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি স্থাপনে ব্যবহৃত হতে পারে। এর পাশাপাশি সেখানে ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিগ্রহ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং কমান্ড পরিচালনার সুবিধাও তৈরি করা হচ্ছে। এই সুবিশাল নির্মাণযজ্ঞ ভূমিভিত্তিক পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন এই প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো পূর্ব জিনজিয়াংয়ে গত ছয় বছরে নির্মিত দুটি অষ্টভুজাকার স্থাপনা। হামি সাইলো থেকে এগুলোর দূরত্ব যথাক্রমে ১৪০ ও ২৩০ কিলোমিটার। স্থাপনাগুলোর চারপাশে সামরিক কর্মীদের বাসস্থান, সাঁজোয়া বাঙ্কার, সুরক্ষিত অস্ত্রাগার, এয়ারফিল্ড এবং রেলপথ রয়েছে। সম্প্রতি এই স্থাপনাগুলোর আশপাশে সামরিক যানবাহন নিয়ে মহড়া চালানোর প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া, লোপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের দক্ষিণে থাকা তৃতীয় অষ্টভুজাকার স্থাপনাটিতে নকল বিমান ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দেখা গেছে, যা মূলত লক্ষ্যবস্তু বা ‘টার্গেট রেঞ্জ’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের সামরিক নীতিতে ‘আগে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ প্রতিশ্রুতি থাকলেও, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এই সামরিক প্রস্তুতি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমা কূটনীতিকদের আশঙ্কা, তাইওয়ান সংঘাতে বাইরের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন পারমাণবিক ভয়ভীতি দেখাতে পারে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ১ হাজারে পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, মরুভূমির মতো বিরূপ পরিবেশে এত বিশাল পরিসরে যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো নির্মাণের এই প্রচেষ্টা সত্যিই বিস্ময়কর। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে তাদের সাইলোর অবস্থান ও কাঠামোগত সুরক্ষার ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে চীনের এই সুবিশাল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং নজিরবিহীন এক কৌশল। সূত্র: রয়টার্স


























হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু