ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজেল সংকটে নৌপথে পণ্য পরিবহনে বাধা, বাড়তি জাহাজ ভাড়া

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ২৪৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার টন ডিজেল কম আমদানি হয়েছে। ডিজেল সংকটে নৌপথে পণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে সংকট। এদিকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জাহাজ ভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো কনটেইনার প্রতি ডেমারেজ চার্জ।

বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন। যার প্রায় ৬৩ শতাংশ পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। কৃষি, সেচ, সড়ক পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যবহার হয় বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিলো প্রায় ৪৩ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের জাহাজ আসতে দেরি এবং সৌদি আরবের এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজ আটকা পড়ায়- কমেছে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তিন মাসে মোট ২৫ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস ও ডিজেল আমদানি হয়েছে। তবে ডিজেল আমদানি গেল বছরের চেয়ে কমেছে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘ওভারঅল যে সংকটের কথা বলা হয়েছে, আমার মনে হয় আমদানি চিত্র যদি অনুধাবন করি তাহলে সংকট তৈরি হবার কথা না।’

এদিকে, ডিজেল সরবরাহ সংকটে অভ্যন্তরীণ নৌ ও সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিভিন্ন গন্তব্যে আড়াই হাজার লাইটারেজ জাহাজ চলাচলে ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দিচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ লিটার। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করলে ও ডিজেল সংকটে গন্তব্যে যেতে পারছে না অনেক লাইটারেজ জাহাজ।

তেলের ডিলার ও জাহাজ অপারেটর শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সারা দেশে নদীপথে মাল পরিবহণের জন্য ১০ লাখ লিটার তেল দরকার। সেখানে সারা বাংলাদেশে ২ লাখ লিটারের বেশি তেল পাচ্ছে না। তাহলে নদীপথ অচল হয়ে যাবে।’

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি পণ্য পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কনটেইনার প্রতি ডেমারেজ চার্জ বাড়ানোয় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘শিপিং কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ডেমারেজ চার্জ নিতে হবে ৯৫ ডলার। আজ থেকে তারা নিচ্ছে ১৩৫ ডলার। আমাদের পোর্টের ডেমারেজ চার্জ বেড়ে গেছে।’

চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টন। আগামী তিন মাসে আরও প্রায় ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে বিপিসির।

৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের অনুমোদন
দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে (দরপত্র বা প্রতিযোগিতা ছাড়া) মোট তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনলাইনে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি প্রস্তাবনার মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টে লিমিটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া একই প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ২ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০ মাত্রার ডিজেল ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিজেল সংকটে নৌপথে পণ্য পরিবহনে বাধা, বাড়তি জাহাজ ভাড়া

আপডেট সময় : ০২:০৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮৫ হাজার টন ডিজেল কম আমদানি হয়েছে। ডিজেল সংকটে নৌপথে পণ্য পরিবহনে তৈরি হয়েছে সংকট। এদিকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জাহাজ ভাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে শিপিং কোম্পানিগুলো কনটেইনার প্রতি ডেমারেজ চার্জ।

বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন। যার প্রায় ৬৩ শতাংশ পূরণ হয় ডিজেল দিয়ে। কৃষি, সেচ, সড়ক পরিবহন, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যবহার হয় বেশি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে ডিজেলের চাহিদা ছিলো প্রায় ৪৩ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের জাহাজ আসতে দেরি এবং সৌদি আরবের এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের জাহাজ আটকা পড়ায়- কমেছে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর তিন মাসে মোট ২৫ লাখ মেট্রিক টন গ্যাস ও ডিজেল আমদানি হয়েছে। তবে ডিজেল আমদানি গেল বছরের চেয়ে কমেছে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘ওভারঅল যে সংকটের কথা বলা হয়েছে, আমার মনে হয় আমদানি চিত্র যদি অনুধাবন করি তাহলে সংকট তৈরি হবার কথা না।’

এদিকে, ডিজেল সরবরাহ সংকটে অভ্যন্তরীণ নৌ ও সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিভিন্ন গন্তব্যে আড়াই হাজার লাইটারেজ জাহাজ চলাচলে ১০ লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো দিচ্ছে দুই থেকে তিন লাখ লিটার। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস করলে ও ডিজেল সংকটে গন্তব্যে যেতে পারছে না অনেক লাইটারেজ জাহাজ।

তেলের ডিলার ও জাহাজ অপারেটর শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সারা দেশে নদীপথে মাল পরিবহণের জন্য ১০ লাখ লিটার তেল দরকার। সেখানে সারা বাংলাদেশে ২ লাখ লিটারের বেশি তেল পাচ্ছে না। তাহলে নদীপথ অচল হয়ে যাবে।’

বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি পণ্য পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কনটেইনার প্রতি ডেমারেজ চার্জ বাড়ানোয় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ এম মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘শিপিং কস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে আমরা দেখতে পাচ্ছি। ডেমারেজ চার্জ নিতে হবে ৯৫ ডলার। আজ থেকে তারা নিচ্ছে ১৩৫ ডলার। আমাদের পোর্টের ডেমারেজ চার্জ বেড়ে গেছে।’

চলতি মার্চ মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫০ টন। আগামী তিন মাসে আরও প্রায় ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা আছে বিপিসির।

৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের অনুমোদন
দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে (দরপত্র বা প্রতিযোগিতা ছাড়া) মোট তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) অনলাইনে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ২৯তম এবং ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহ্বায়ক, অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি প্রস্তাবনার মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টে লিমিটেডের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া একই প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে ২ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০ মাত্রার ডিজেল ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।