ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক সমাজের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকার। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন অতীত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও তা যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতাদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদান স্মরণ করছি। তাদের অনন্য অবদানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ও ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ তা প্রমাণ করে। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক দলের নয়, এটি ছিল ‘জনযুদ্ধ’। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে সবার দায়িত্ব। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক– ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো’। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করবো এবং ভালো থাকবো ইনশাআল্লাহ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক সমাজের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকার। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন অতীত মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের অনবদ্য চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকলেও তা যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতাদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সাহসী জনগণের অবদান স্মরণ করছি। তাদের অনন্য অবদানে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ও ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধ তা প্রমাণ করে। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত এই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো এক দলের নয়, এটি ছিল ‘জনযুদ্ধ’। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে সবার দায়িত্ব। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক– ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো’। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করবো এবং ভালো থাকবো ইনশাআল্লাহ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।