আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন
- আপডেট সময় : ০১:০২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ সাময়িকভাবে থামিয়ে দেওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতার দাবি করেছিল বেইজিং। সেই প্রেক্ষাপটে চীনের এই অস্ত্র পাঠানোর পদক্ষেপকে বেশ উস্কানিমূলক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, আগামী মাসের শুরুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য বেইজিং সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
গোয়েন্দা তথ্য থেকে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান তার প্রধান বিদেশি মিত্রদের সহায়তায় অস্ত্রের মজুত পুনরায় গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। দুটি সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের আড়াল করতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই অস্ত্রের চালান পাঠানোর ছক কষছে।
সূত্রগুলো জানায়, বেইজিং যেসব অস্ত্র হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেগুলো মূলত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী মিসাইল সিস্টেম, যা ম্যানপ্যাড (MANPAD) নামে পরিচিত। পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী এই যুদ্ধ চলাকালে নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়া মার্কিন সামরিক বিমানগুলোর জন্য এটি একটি বড় হুমকি ছিল এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তা আবারও বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “চীন কখনোই সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি; এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য।” তিনি আরও বলেন, “একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে চীন সবসময় তার আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে। আমরা মার্কিন পক্ষকে ভিত্তিহীন অভিযোগ, বিদ্বেষপূর্ণ সংযোগ তৈরি করা এবং চাঞ্চল্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই; আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উত্তেজনা কমানোর জন্য আরও বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, গত সপ্তাহে ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া এফ-১৫ (F-15) যুদ্ধবিমানটি একটি “হাতে বহনযোগ্য কাঁধের মিসাইল বা হিট-সিকিং মিসাইল”-এর আঘাতে ধ্বংস হয়েছিল। ইরানও বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে জানিয়েছিল যে তারা বিমানটিতে আঘাত হানতে একটি “নতুন” আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। তবে ওই ব্যবস্থাটি চীনের তৈরি কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে ইরানে ম্যানপ্যাড পাঠানো হবে চীনের পক্ষ থেকে সমর্থন বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ। এর আগে চীনা কোম্পানিগুলো ইরানকে সামরিক প্রযুক্তি বিক্রি করলেও, চীন সরকারের সরাসরি অস্ত্র হস্তান্তর একটি নতুন মাত্রার সহায়তার ইঙ্গিত দেয়।
চীনের ভূ-কৌশলগত হিসাব-নিকাশ গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের মতে, সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে রক্ষা করার মধ্যে চীন কোনো কৌশলগত লাভ দেখছে না। এর বদলে, বেইজিং ইরানের (যাদের তেলের ওপর চীন ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল) একজন পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তারা প্রকাশ্যে নিরপেক্ষ থাকার নীতি বজায় রাখছে, যাতে যুদ্ধ শেষে সহজেই দায় এড়ানো যায়।
সূত্রগুলো আরও জানায়, চীনারা এ যুক্তিও দেখাতে পারে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ভূমিকাকে রাশিয়ার চেয়ে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চায়। রাশিয়া যুদ্ধজুড়ে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে সহায়তা করে আসছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সম্পদের ওপর হামলা চালাতে ইরানকে সাহায্য করেছে।
উল্লেখ্য, চীন ও রাশিয়া উভয়ের সঙ্গেই ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইরান ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ব্যাপকভাবে শাহেদ ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে এবং অন্যদিকে নিজেদের অবরোধের আওতায় থাকা বিপুল পরিমাণ তেল চীনে রপ্তানি করে আসছে। সূত্র: সিএনএন





















জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়েছে