ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি বর্তমানে বিবেচনা করছে ভারত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় অনুরোধটি পর্যালোচনা করছি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে এটিই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো সরাসরি মন্তব্য। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নজরদারির বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতীয় সংসদে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহ খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

শেখ হাসিনা ইস্যু নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত আগ্রহী বলে জানান মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশই বর্তমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। সূত্র: এএনআই

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত

আপডেট সময় : ১০:১৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকা থেকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি বর্তমানে বিবেচনা করছে ভারত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় অনুরোধটি পর্যালোচনা করছি এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাব।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৮ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা প্রসঙ্গে এটিই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম কোনো সরাসরি মন্তব্য। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই ইস্যুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর নজরদারির বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জাতীয় সংসদে গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি ঘটনাপ্রবাহ খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”

শেখ হাসিনা ইস্যু নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত আগ্রহী বলে জানান মুখপাত্র। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই দেশই বর্তমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার মাধ্যমে অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। সূত্র: এএনআই