ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে বড় ভাইয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অমানবিক এই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার কলাগাছিয়া চরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত দুই শিশু হলো শামিম (৭) ও তার ছোট ভাই জিহাদ (৫)। তারা সম্পর্কে আপন ভাই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু দুটিকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় ৫ বছরের শিশু জিহাদ ভয়ে ও আতঙ্কে কান্নাকাটি করছিল। আর বড় ভাই শামিমের মাথার একদিকের চুল কাটা অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গাছের সঙ্গে একটি ব্লেড ঝুলতেও দেখেছেন স্থানীয়রা।

নির্যাতিত শিশুদের মা লাইলি বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী তোফায়েল দালালের দোকানের কর্মচারী আল আমিন তাদের চোর সাজিয়ে এই নৃশংসতা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলেরা লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে দোকানের পাশে পড়ে থাকা একটি দড়ি কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেটি আনতে গেলেই তাদের ওপর চুরির দায় চাপিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে শামিমের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। শিশুদের বাবা স্বপন দালাল বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে আমার দুই ছেলেকে মারধর করে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। বড় ছেলের মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়।’

অবশ্য চুরির দাবি তুলে দোকান মালিক তোফায়েল দালাল দাবি করেছেন, ওই শিশুরা এর আগেও দোকানে চুরি করেছে এবং ঘটনার দিন তারা দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। তাই তার কর্মচারী তাদের কেবল বেঁধে রেখেছিল। মারধর বা চুল কাটার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অভিযুক্ত আল আমিনের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শিশুদের মা। অভিযুক্ত আল আমিন সদর ইউনিয়নের সেনের হাওয়া গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দীন জানান, শিশুদের নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট সময় : ১০:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চুরির অপবাদ দিয়ে দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে বড় ভাইয়ের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অমানবিক এই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার কলাগাছিয়া চরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশে এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত দুই শিশু হলো শামিম (৭) ও তার ছোট ভাই জিহাদ (৫)। তারা সম্পর্কে আপন ভাই। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশু দুটিকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় ৫ বছরের শিশু জিহাদ ভয়ে ও আতঙ্কে কান্নাকাটি করছিল। আর বড় ভাই শামিমের মাথার একদিকের চুল কাটা অবস্থায় দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গাছের সঙ্গে একটি ব্লেড ঝুলতেও দেখেছেন স্থানীয়রা।

নির্যাতিত শিশুদের মা লাইলি বেগমের অভিযোগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী তোফায়েল দালালের দোকানের কর্মচারী আল আমিন তাদের চোর সাজিয়ে এই নৃশংসতা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলেরা লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে দোকানের পাশে পড়ে থাকা একটি দড়ি কুড়িয়ে পেয়েছিল। সেটি আনতে গেলেই তাদের ওপর চুরির দায় চাপিয়ে মারধর করা হয়। পরে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে শামিমের মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। শিশুদের বাবা স্বপন দালাল বলেন, ‘চুরির অপবাদ দিয়ে আমার দুই ছেলেকে মারধর করে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছে। বড় ছেলের মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়।’

অবশ্য চুরির দাবি তুলে দোকান মালিক তোফায়েল দালাল দাবি করেছেন, ওই শিশুরা এর আগেও দোকানে চুরি করেছে এবং ঘটনার দিন তারা দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করছিল। তাই তার কর্মচারী তাদের কেবল বেঁধে রেখেছিল। মারধর বা চুল কাটার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে অভিযুক্ত আল আমিনের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন শিশুদের মা। অভিযুক্ত আল আমিন সদর ইউনিয়নের সেনের হাওয়া গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীমউদ্দীন জানান, শিশুদের নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।