ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মা, তার তিন সন্তান এবং ভাইসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে গভীর রাতে কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন— শারমিন (৩০), মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায়। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের ‘শেষ করে দেওয়া হয়েছে’ বলে জানান।

প্রায় এক বছর আগে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে থানার পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ক্রাইমস সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের কাজ করছে।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, পলাতক ফোরকান মিয়া প্রাইভেটকার চালক। তিনি প্রায় এক বছর আগে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রাথমিকভাবে ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজীপুরে স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় মা, তার তিন সন্তান এবং ভাইসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার (৮ মে) উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে গভীর রাতে কোনো এক সময় তাদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন— শারমিন (৩০), মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।

ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদর এলাকায়। তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া বিবাদ চলতো। কিন্তু ফুরকান মিয়া যে এতো বড় কাজ করবে, এটা আমরা বিশ্বাস করতাম না। তার শ্যালক তাদের সাথেই থাকতো। ফুটফুটে তিনটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

জাহানারা আক্তার নামে এক প্রতিবেশী বলেন, গতকাল বিকেলেও বাচ্চাগুলো বাড়ির উঠোনে খেলা করেছে। কে জানতো এই রাতেই তাদের মেরে ফেলা হবে। সকালে লোকজনের চিৎকার শুনে এসে দেখেন, একেক মরদেহ একেক দিকে পড়ে আছে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের ‘শেষ করে দেওয়া হয়েছে’ বলে জানান।

প্রায় এক বছর আগে প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া ওঠেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে থানার পুলিশ, ডিবি, পিবিআই ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ক্রাইমস সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহের কাজ করছে।

কাপাসিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুবাইর হোসেন জানান, পলাতক ফোরকান মিয়া প্রাইভেটকার চালক। তিনি প্রায় এক বছর আগে রাউৎকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী সন্তানসহ বসবাস করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়েছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশফাক উজ্জামান জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং প্রাথমিকভাবে ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।