ঢাকায় এলো প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র হজ পালন শেষে এবার দেশে ফেরার পালা। আজ (শনিবার, ৩০ মে) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ফ্লাইট বিজি ৩৩৬ হজযাত্রীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও জনাব কাইজার সোহেল আহমেদ।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেয় প্রথম ফিরতি ফ্লাইট। সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৫৮০৬ ফ্লাইটের মাধ্যমে শুরু হয় হাজিদের দেশে ফেরার এই যাত্রা।
এ সময় বিমানের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও ডিসিইও জনাব সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ, পরিচালক গ্রাহক সেবা (ভারপ্রাপ্ত) জনাব মহিউদ্দিন আহমেদ, হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদসহ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ফ্লাইটে আসা হজযাত্রীদের বিমানবন্দরে ফুল ও পবিত্র জমজমের পানি প্রদান করে অভ্যর্থনা জানানো হয়। একইসঙ্গে সৌদি এয়ারলাইন্সের হজযাত্রীদেরও ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী বহনকারী শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আরবে পৌঁছায় ২১ মে। আগামী ১ জুলাই ফিরতি হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বছর সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই হজযাত্রীদের তাঁবু ভাড়া, পরিবহণ চুক্তি, আবাসন এবং ভিসাসহ সব প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি হজযাত্রী পরিবহণ নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে কোনো ধরনের বড় সময়সূচি বিপর্যয় ছাড়াই নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও দয়ার কারণেই এবারের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সফলতার কৃতিত্ব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ।
ধর্মমন্ত্রী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, প্রশাসনিক টিম এবং হজ সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীও হাজিদের সেবার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার উদ্যোগে বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং, বিশুদ্ধ পানিসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরাফা ও মিনায় বাংলাদেশি হাজিদের মাঝে জুস বিতরণের ব্যবস্থাও করা হয়।
আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, হাজিদের ভোগান্তি কমাতে কিছু হজ প্যাকেজ ও বেসরকারি এজেন্সির কার্যক্রম নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে। একই সঙ্গে হজের ব্যয় কমানোর বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে এবারের হজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার, সৌদি সরকার, হজ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের হজ সফল হয়েছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রয়েছে মহান আল্লাহর রহমত।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সফল। কোনো ধরনের বড় অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, সরকার, ধর্ম মন্ত্রণালয়, সৌদি কর্তৃপক্ষ, এয়ারলাইন্স এবং হজ এজেন্সিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে হাজীরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতে পেরেছেন।























পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করার মোদির স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ!