ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটির কারণে তা আজ উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এবং ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী ৩ হাজার ৬৪৫ জন এবং সেনাবাহিনীর সদস্য ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন।

বর্তমানে ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪১২ জন নিয়োজিত রয়েছেন। কার্যক্রম শুরু থেকে এ পর্যন্ত মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আত্মত্যাগকারীদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন রয়েছেন। এছাড়া এসব মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

আপডেট সময় : ১২:১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ বুধবার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিবছর ২৯ মে দিবসটি পালিত হলেও এবার ঈদের ছুটির কারণে তা আজ উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় শাহাদাতবরণকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রম একটি অনন্য উদ্যোগ। বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস, ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকারী সাহসী শান্তিরক্ষীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁদের এই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের মর্যাদাপূর্ণ স্থান অক্ষুণ্ন রেখে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে প্রথম স্থানে ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৮ সালে ইরাক-ইরানে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ শুরু হয়।

এরপর ১৯৯৩ সাল থেকে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এবং ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের ১ হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন সদস্য ২৫টি দেশের ২৭টি শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এসব মিশনে মোট ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৬ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে নারী শান্তিরক্ষী ৩ হাজার ৬৪৫ জন এবং সেনাবাহিনীর সদস্য ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন।

বর্তমানে ৯টি শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৪ হাজার ৪১২ জন নিয়োজিত রয়েছেন। কার্যক্রম শুরু থেকে এ পর্যন্ত মিশনে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আত্মত্যাগকারীদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমানবাহিনীর ৯ জন এবং পুলিশের ২৪ জন রয়েছেন। এছাড়া এসব মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আহত হয়েছেন মোট ২৮৭ জন।