ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তারা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।

এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন শুনানিতে তাদের (নাসির-তামিমা) সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল, যেখানে তাদের একটি আট বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে এই বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিব হাসানের নজরে আসে। এরপর ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় মামলা করেন রাকিব।

মামলাটি তদন্তের পর ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ এবং সুমি আক্তারের অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ পৃথক রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তা খারিজ করে দেন। ফলে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিচার চালিয়ে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়।

২০২৩ সালের ২০ মার্চ মামলার বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। চলতি বছরের ১০ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনে নাসির ও তামিমা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর ৩০ মার্চ তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় ৮ এপ্রিল। আজ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি লড়াই থেকে মুক্ত হলেন নাসির ও তামিমা দম্পতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

আপডেট সময় : ০৩:২৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তারা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।

এর আগে গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিন শুনানিতে তাদের (নাসির-তামিমা) সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে প্রার্থনা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের প্রার্থনা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানার সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয়েছিল, যেখানে তাদের একটি আট বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে সেই বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে এই বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিব হাসানের নজরে আসে। এরপর ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৫০০ ধারায় মামলা করেন রাকিব।

মামলাটি তদন্তের পর ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআই-এর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ এবং সুমি আক্তারের অব্যাহতির বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ পৃথক রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালত তা খারিজ করে দেন। ফলে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে বিচার চালিয়ে যাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়।

২০২৩ সালের ২০ মার্চ মামলার বাদী রাকিব হাসানের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। চলতি বছরের ১০ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনে নাসির ও তামিমা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এরপর ৩০ মার্চ তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন, যা শেষ হয় ৮ এপ্রিল। আজ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ পাঁচ বছর পর এই আইনি লড়াই থেকে মুক্ত হলেন নাসির ও তামিমা দম্পতি।