ইরানের হামলায় ইসরায়েলে রাসায়নিক বিপর্যয়ের তীব্র আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ০১:২৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মাঝেই দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি প্রধান পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বারবার চালানো ইরানি হামলার কারণে সম্ভাব্য রাসায়নিক ফাঁসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ ইসরায়েলের রামাত হোভভ (Ramat Hovav) শিল্পাঞ্চলে তিনটি ইরানি হামলা চালানো হয়েছে।
‘ইসরায়েল হায়োম’ (Israel Hayom) পত্রিকার মতে, গত ২৯ মার্চ এই শিল্পাঞ্চলের ‘আদামা মাখাকেম’ (Adama Makhachem) কারখানায় একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে আগুন ধরে যায় এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ফাঁসের আশঙ্কায় ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।
গত ২ এপ্রিল একই এলাকায় দ্বিতীয় হামলাটি হয়। এই হামলায় ওই একই স্থাপনার ক্ষতি হয় এবং সেখানে আবারও আগুন লাগে। রোববার তৃতীয় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই স্থাপনার কাছে পড়লেও এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পত্রিকাটি জানিয়েছে, বারবার চালানো এই ইরানি হামলাগুলো মোটেও “কাকতালীয় নয়”। তারা উল্লেখ করেছে যে, রামাত হোভভ অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের অন্যতম বৃহত্তম কেন্দ্র এবং একটি “কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু” হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “এই স্থাপনায় যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, এমনকি তা যদি বিপর্যয়কর কোনো পরিণতি ডেকে নাও আনে, তারপরও তা মানসিক প্রভাব ও জনমতের চাপের পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য পরিবেশগত হুমকি তৈরি করে। এই এলাকার সংবেদনশীলতা শুধুমাত্র শিল্পগত দিক দিয়েই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ভৌগোলিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।”
ওই দৈনিকের মতে, এই কমপ্লেক্সটি বীরশেবা (Beersheba) শহর ও আশপাশের জনবসতির খুব কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, যেকোনো বিপজ্জনক রাসায়নিক ফাঁস বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা দক্ষিণ ইসরায়েলের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে, ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে চালানো ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ইরানি হামলাগুলো চালানো হয়েছে।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর অভিযান চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি সহ এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান, ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন দেশ যেমন জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলও সীমিত করেছে ইরান।


























সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৪ জনের