ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত শহরে ফিরছেন মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ শেষে এবার চিরচেনা ব্যস্ততায় ফেরার পালা। নাড়ি ও শেকড়ের মায়া কাটিয়ে যান্ত্রিক নগরের কর্মব্যস্ততায় আবারও মিশে যাচ্ছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শুরুতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রী বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করে ফেরা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে ফেরার এই মিছিলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে।

নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেনটি দেরিতে ছেড়েছে। এছাড়া পথে কয়েকটি স্টেশনেও অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়েছে ট্রেনটি। অতিরিক্ত বগিতে ভাড়া বেশি নেওয়া হলেও বসার আসন নিয়ে সমস্যার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা যমুনা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত স্টেশন ছাড়াও ট্রেনটি পথে বিভিন্ন জায়গায় থেমেছে। ফলে আগের তুলনায় অনেক দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।

এছাড়া সকালে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস এবং বলাকা এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছেড়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ট্রেনগুলোতে মানুষের ভিড়। সড়ক, লঞ্চ ও ট্রেনে চড়ে দলে দলে মানুষ ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন। তবে এই ফেরার স্রোতের মধ্যেও অনেককে এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনে ছুটতে দেখা গেছে।

স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে যারা কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন, তাদের অধিকাংশই সপরিবারে এসেছেন। তবে কেউ কেউ স্বজনদের গ্রামে রেখে একাই ফিরেছেন কর্মস্থলে। আবার অনেক যাত্রী এই সময়েও ঢাকা ছাড়ছেন। এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই বিলম্ব লক্ষ করা গেছে।

ঢাকায় ফেরার চাপের পাশাপাশি ঢাকা ছাড়ার ট্রেনগুলোতেও যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে সকাল থেকে নির্ধারিত সময়ে কোনো ট্রেনই কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি। ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে পৌনে ১০টায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘তিতাস কমিউটার’ ৯টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ১০টা ১৫ মিনিটে এবং ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টার পর স্টেশন ত্যাগ করে।

এদিকে পঞ্চগড় থেকে আসা ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হয়। এই ট্রেনে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী মনু মিয়া। তিনি জানান, তাঁদের অফিসে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে তিনজনের ছুটি শেষে ফেরার পর আজ বাকি তিনজনের ছুটি শুরু হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদের ছুটি শেষে কর্মব্যস্ত শহরে ফিরছেন মানুষ

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ শেষে এবার চিরচেনা ব্যস্ততায় ফেরার পালা। নাড়ি ও শেকড়ের মায়া কাটিয়ে যান্ত্রিক নগরের কর্মব্যস্ততায় আবারও মিশে যাচ্ছেন মানুষ। ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি কাটিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শুরুতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রী বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করে ফেরা মানুষের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে ফেরার এই মিছিলে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তিতে ফেলেছে।

নীলফামারী থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেনটি দেরিতে ছেড়েছে। এছাড়া পথে কয়েকটি স্টেশনেও অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়েছে ট্রেনটি। অতিরিক্ত বগিতে ভাড়া বেশি নেওয়া হলেও বসার আসন নিয়ে সমস্যার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা যমুনা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত স্টেশন ছাড়াও ট্রেনটি পথে বিভিন্ন জায়গায় থেমেছে। ফলে আগের তুলনায় অনেক দেরিতে কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।

এছাড়া সকালে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস এবং বলাকা এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ছেড়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ট্রেনগুলোতে মানুষের ভিড়। সড়ক, লঞ্চ ও ট্রেনে চড়ে দলে দলে মানুষ ব্যস্ত নগরীতে ফিরছেন। তবে এই ফেরার স্রোতের মধ্যেও অনেককে এখনো পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপনে ছুটতে দেখা গেছে।

স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটি শেষে যারা কাজে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন, তাদের অধিকাংশই সপরিবারে এসেছেন। তবে কেউ কেউ স্বজনদের গ্রামে রেখে একাই ফিরেছেন কর্মস্থলে। আবার অনেক যাত্রী এই সময়েও ঢাকা ছাড়ছেন। এদিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই বিলম্ব লক্ষ করা গেছে।

ঢাকায় ফেরার চাপের পাশাপাশি ঢাকা ছাড়ার ট্রেনগুলোতেও যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। তবে সকাল থেকে নির্ধারিত সময়ে কোনো ট্রেনই কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি। ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে পৌনে ১০টায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘তিতাস কমিউটার’ ৯টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে ১০টা ১৫ মিনিটে এবং ‘জামালপুর এক্সপ্রেস’ ১০টার পরিবর্তে সাড়ে ১০টার পর স্টেশন ত্যাগ করে।

এদিকে পঞ্চগড় থেকে আসা ‘একতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সকাল পৌনে ১১টার দিকে পুনরায় পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হয়। এই ট্রেনে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী মনু মিয়া। তিনি জানান, তাঁদের অফিসে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে তিনজনের ছুটি শেষে ফেরার পর আজ বাকি তিনজনের ছুটি শুরু হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ি ছুটছেন তিনি।