ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন থেকে স্যাটেলাইট কিনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত হামলা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান নজরদারিতে রাখতে ইরান চীন নির্মিত একটি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘টিইই০১বি’ নামের এই স্যাটেলাইটটি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘আর্থ আই কোম্পানি’ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়াটি ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ নামক একটি বিশেষ রপ্তানি মডেলের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে মহাকাশে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আইআরজিসি এই স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এম্পোসাট’-এর বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুপ্তচরবৃত্তি সক্ষম এই স্যাটেলাইটটি গত ১৩ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে। উল্লেখ্য, ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন যে, ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার ওপরও এই স্যাটেলাইট নজরদারি চালিয়েছে। আইআরজিসি ঠিক এই সময়গুলোতেই উক্ত এলাকাগুলোতে হামলার দাবি করেছিল। নজরদারির এই তালিকায় কুয়েত, জিবুতি ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটিসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

সাবেক পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, চীনা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এমন স্পর্শকাতর স্যাটেলাইট ইরানকে সরবরাহ করা অসম্ভব। যদিও চীন বারবার ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবে মার্কিন সরকারের দাবি, চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রযুক্তিগত উপাদানের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও চীনের এমন গোয়েন্দা সহায়তা প্রদানের খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতাকে আরও নির্ভুল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি শেয়ার করুন

চীন থেকে স্যাটেলাইট কিনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিখুঁত হামলা!

আপডেট সময় : ০১:০৯:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান নজরদারিতে রাখতে ইরান চীন নির্মিত একটি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘টিইই০১বি’ নামের এই স্যাটেলাইটটি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘আর্থ আই কোম্পানি’ তৈরি ও উৎক্ষেপণ করার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কাছে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়াটি ‘ইন-অরবিট ডেলিভারি’ নামক একটি বিশেষ রপ্তানি মডেলের আওতায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে মহাকাশে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আইআরজিসি এই স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এম্পোসাট’-এর বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত গ্রাউন্ড স্টেশন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগও পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুপ্তচরবৃত্তি সক্ষম এই স্যাটেলাইটটি গত ১৩ থেকে ১৫ মার্চের মধ্যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির বিস্তারিত চিত্র ধারণ করে। উল্লেখ্য, ১৪ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন যে, ওই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং ইরাকের এরবিল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকার ওপরও এই স্যাটেলাইট নজরদারি চালিয়েছে। আইআরজিসি ঠিক এই সময়গুলোতেই উক্ত এলাকাগুলোতে হামলার দাবি করেছিল। নজরদারির এই তালিকায় কুয়েত, জিবুতি ও ওমানের মার্কিন ঘাঁটিসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

সাবেক পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, চীনা সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এমন স্পর্শকাতর স্যাটেলাইট ইরানকে সরবরাহ করা অসম্ভব। যদিও চীন বারবার ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে, তবে মার্কিন সরকারের দাবি, চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রযুক্তিগত উপাদানের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের বৃহত্তম ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও চীনের এমন গোয়েন্দা সহায়তা প্রদানের খবর উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান রাশিয়ার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করেছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতাকে আরও নির্ভুল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল