ট্রাম্পের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানে ইসরায়েলের পাল্টা হামলা
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
লেবাননে সামরিক অভিযানের জেরে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ও অনুরোধ উপেক্ষা করেই ইরানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই হামলা চালানো হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় নিয়ে গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরকে লক্ষ্য করে এই পাল্টা হামলা চালায়। হামলা চলাকালে রাজধানী তেহরানে অন্তত দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ইসরায়েলের এই আকস্মিক বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ইসরায়েলের এই পাল্টা হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার কিছু সময় আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে এই পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করেছিলেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পাদনের খুব কাছাকাছি রয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, “আশা করি ইসরায়েল পাল্টা জবাব দেবে না। যদি বিবি (নেতানিয়াহু) পাল্টা আঘাত হানেন, তবে এই সংঘাত অনন্তকাল চলতেই থাকবে।” ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করে বোঝানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তা কানে তোলেননি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনুরোধ উপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে ইরান ইস্যুতে দুই চিরমিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার কৌশলগত দূরত্ব ও ফাটল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
এর আগে, লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের ‘রামাত ডেভিড’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ওই হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে সতর্ক করে বলেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ইরান বরদাস্ত করবে না। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো ধৃষ্টতা দেখায় বা পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তবে ইরানের পরবর্তী জবাব হবে আরও অনেক বেশি কঠোর এবং তার জন্য ইসরায়েলকে চড়া মূল্য দিতে হবে। ইরানের সেই হুঁশিয়ারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ উভয়কেই পাশ কাটিয়ে ইসরায়েল এই হামলা চালানোয় অঞ্চলটিতে এখন এক পাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সর্বাত্মক যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র: ফার্স্ট পোস্ট


























দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া