ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ
- আপডেট সময় : ০১:৪৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
হিমেল হাওয়ায় প্রকৃতিতে জেঁকে বসতে শুরু করেছে শীত। ইতোমধ্যে ১২ ডিগ্রিতে নেমেছে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এই অবস্থায় চলতি ডিসেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দেশে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হানা দিতে পারে। এতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ৪ ডিগ্রিতে। সেই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে হতে পারে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রঝড়ও।
আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে একটি, জানুয়ারির মাঝামাঝি আরও একটি বা দুটি এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরেকটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের পর শীতের আমেজ ধীরে ধীরে কমতে থাকবে এবং তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করবে।
তিনি জানান, প্রথম শৈত্যপ্রবাহটি সিলেট অঞ্চলে দেখা যেতে পারে, যদিও দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানায়, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ২ থেকে ৩টি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা নেমে আসতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
শীত জোরদার হওয়ায় নদীবিধৌত অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে চলতি ডিসেম্বর থেকে ৩ মাসের (ডিসেম্বর, ২০২৫ ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ৩ মাসে দেশে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ডিসেম্বর থেকে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৩ থেকে ৮টি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (০৬-০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
এরমধ্যে ২ থেকে ৩টি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র (০৪-০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রূপ নিতে পারে। যদিও এই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।
৩ মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, এই সময়ে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনও কখনও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
এছাড়াও ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও ১ থেকে ২ দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত
শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা জেলা। গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার পর আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ঠাণ্ডার তীব্রতা বিন্দুমাত্র কমেনি। হিমেল বাতাসের দাপটে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাবু প্রাণিকুল।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত দু’দিনের তাপমাত্রা কাছাকাছি অবস্থান করায় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবারের তুলনায় তাপমাত্রা শূন্য দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও তাবে ঠাণ্ডার তীব্রতা কমেনি।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক জামিনুর রহমান জানান, যদিও তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু বাতাসের আর্দ্রতা ও হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তিনি আরও পূর্বাভাস দেন যে, এই শৈত্যপ্রবাহের ধারা আগামী কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আবারও কমতে পারে।
পঞ্চগড়ে বাড়ছে শীতের দাপট
পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা প্রতিদিনই বাড়ছে। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই ওঠানামা করার পর তেঁতুলিয়ায় টানা তিন দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে ভোর থেকেই দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হয়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, টানা তিন দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড কারা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এমন পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা সামনে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।
কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত জনজীব
কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। হিমেল বাতাসে জনজীবন নাকাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে, এতে করে তারা ঠিকমতো কাজে বের হতে পারছেন না।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জানা গেছে, জেলার ১৬ নদনদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে মানুষের বসবাস। এসব চরের অধিকাংশ এলাকায় তীব্র শীতের কারণে মানুষ হিমেল বাতাসে ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।
শিক্ষার্থী রাকিব জানায়, শীতের কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। রাস্তায় বের হওয়া যায় না, সকালে স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। লেখা পড়ায়ও খুব কষ্ট হচ্ছে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় আজ শুক্রবার সকাল ৬টায় ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা ৯৮ শতাংশ।





















সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৪ জনের