ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি মামলায় ধাক্কা খেলেন নেতানিয়াহু, এখনই মিলছে না রাষ্ট্রপতির ক্ষমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলায় এখনই কোনো ক্ষমার সিদ্ধান্ত আসছে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালতের বাইরে পক্ষগুলোর মধ্যে একটি আইনি সমঝোতায় পৌঁছানোর সমস্ত প্রচেষ্টা শেষ হওয়ার পরই কেবল তিনি নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদনটি বিবেচনা করবেন। রোববার এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয় যে, এই ক্ষেত্রে একটি চুক্তিই হবে সর্বোত্তম সমাধান।

প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া তদন্ত এবং ২০১৯ সালে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। এই বিচারপ্রক্রিয়া ইসরায়েলের জাতীয় রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবেই ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে সেখানে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট আপাতত ক্ষমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে একটি আপস-মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বর্তমানে এমন কোনো আপস-মীমাংসার আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বা নেতানিয়াহুর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি আইনে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকলেও, বিচার চলাকালীন কাউকে ক্ষমা করার কোনো পূর্বনজির দেশটিতে নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট হারজগকে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গত মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন যখন এই বিচারকার্য স্থগিত রাখা হয়েছিল, তখনও ট্রাম্প এই অনুরোধ করেছিলেন।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক বিচারকার্য আবারও শুরু হওয়ায় চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহুকে আদালতে ফিরতে হচ্ছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই ইসরায়েলের ইতিহাসের প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, যিনি পদে থাকাকালীন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্নীতি মামলায় ধাক্কা খেলেন নেতানিয়াহু, এখনই মিলছে না রাষ্ট্রপতির ক্ষমা

আপডেট সময় : ০২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দীর্ঘদিনের দুর্নীতি মামলায় এখনই কোনো ক্ষমার সিদ্ধান্ত আসছে না। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালতের বাইরে পক্ষগুলোর মধ্যে একটি আইনি সমঝোতায় পৌঁছানোর সমস্ত প্রচেষ্টা শেষ হওয়ার পরই কেবল তিনি নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদনটি বিবেচনা করবেন। রোববার এক বিবৃতির মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয় যে, এই ক্ষেত্রে একটি চুক্তিই হবে সর্বোত্তম সমাধান।

প্রায় এক দশক আগে শুরু হওয়া তদন্ত এবং ২০১৯ সালে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। এই বিচারপ্রক্রিয়া ইসরায়েলের জাতীয় রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবেই ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দেশটিতে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে সেখানে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট আপাতত ক্ষমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে একটি আপস-মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। তবে বর্তমানে এমন কোনো আপস-মীমাংসার আনুষ্ঠানিক প্রচেষ্টা চলছে কি না, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র বা নেতানিয়াহুর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমার জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি আইনে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের থাকলেও, বিচার চলাকালীন কাউকে ক্ষমা করার কোনো পূর্বনজির দেশটিতে নেই। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট হারজগকে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে গত মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন যখন এই বিচারকার্য স্থগিত রাখা হয়েছিল, তখনও ট্রাম্প এই অনুরোধ করেছিলেন।

২০২০ সালে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক বিচারকার্য আবারও শুরু হওয়ায় চলতি সপ্তাহে নেতানিয়াহুকে আদালতে ফিরতে হচ্ছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুই ইসরায়েলের ইতিহাসের প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী, যিনি পদে থাকাকালীন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স