যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা, বেড়ে গেল তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার আশা ছিল। তবে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত রোববার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দফায় দফায় ওঠানামার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ আজ (সোমবার) জিএমটি ১টা ৩০ মিনিটে ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলারে স্থির হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর রোববার (২৬ এপ্রিল) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
পরে সামান্য কমলেও দুপুরে তেলের বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৯৯ ডলার। তবে এ অচলাবস্থার প্রভাব এশিয়ার শেয়ারবাজারে তেমন পড়েনি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে লেনদেন শুরু করে।
পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা আবারও স্থবির হয়ে পড়ায় সোমবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ দশমিক ৪০ ডলার।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এর আগে গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর বাতিল করেন। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কোনও সরাসরি বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন।
এদিকে সোমবার আরাগচি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটানোর উপায় খুঁজতেই এই সফর। রোববার ওমানে সংক্ষিপ্ত সফরের পর তার এই রাশিয়া সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
অবশ্য গত সপ্তাহে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দেন, তবে চূড়ান্ত চুক্তির সময়সীমা নির্দিষ্ট করেননি।
এদিকে আলোচনা অচল থাকায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ইরানের হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আর চলমান এই পরিস্থিতি বিশ্বের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে।
সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) হিসেবে, গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করতো।
মূলত ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হুমকির কারণে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।


























শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার