পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
প্রথম দফার গণশুনানিতে ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের আপত্তি সত্ত্বেও দেশে পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। নতুন মূল্যহার ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।
পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বেড়েছে ও গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরো পর্যায়ের ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন মাশুলও বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে মাশুল ছিল ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ৭ দশমিক ৫১ পয়সা বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ দাম বেড়েছে। এর প্রভাব আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলে পড়বে।
এর আগে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেখানে দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পিডিবি প্রতি ইউনিট ৮৫ পয়সা, আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিরোধিতা করে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। তবে শেষ পর্যন্ত আপত্তি আমলে না নিয়ে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে চলতি মাস থেকেই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে যাচ্ছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।






















অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে: মির্জা ফখরুল