ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ জিতলে প্রতি খেলোয়াড় পাবে ১০০ কোটি

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের জন্য এক নতুন বোনাস কাঠামো ঘোষণা করেছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএফএ)। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারের বর্ধিত বিশ্বকাপ ফরম্যাটের কথা মাথায় রেখেই নতুন এই বোনাস পদ্ধতি সাজানো হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ; ফলে নকআউট পর্যায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি বাড়তি রাউন্ড। টানা ১১ বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার কৃতিত্ব স্বরূপ স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই পাচ্ছেন ৫০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৩৩ হাজার ডলার) করে বেস ফি বা শুরুর পারিশ্রমিক। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ২০ মিলিয়ন ওন।

তবে খেলোয়াড়দের জন্য আসল আর্থিক প্রণোদনা শুরু হবে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হওয়ার পর থেকেই। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ পৌঁছাতে পারলেই প্রতি খেলোয়াড় নিশ্চিতভাবে পাবেন ১০০ মিলিয়ন ওন বোনাস। এরপর থেকে নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জিতলেই বোনাসের অঙ্ক ১০০ মিলিয়ন ওন করে বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ, শেষ ষোলোতে উঠলে ২০০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে ৩০০ মিলিয়ন ওন এবং সেমিফাইনালে উঠলে মিলবে ৪০০ মিলিয়ন ওন।

যদি কোরিয়া ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে বোনাসের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ মিলিয়ন ওনে; আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেই অঙ্ক গিয়ে ঠেকবে সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিয়ন ওনে। এছাড়া টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারলেও থাকছে ৪৫০ মিলিয়ন ওনের বোনাস।

কাতার বিশ্বকাপে কোরিয়ার ফুটবলারদের জন্য শেষ ষোলোর জন্য ১০০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য ২০০ মিলিয়ন ওন এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ওন বোনাস নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ধাপভিত্তিক বোনাসের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের জন্যও আলাদা জয়ের বোনাস দেওয়া হবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য প্রতি খেলোয়াড় পাবেন ৩০ মিলিয়ন ওন এবং ড্রয়ের জন্য মিলবে ১০ মিলিয়ন ওন। নকআউট পর্বে এই ম্যাচের বোনাসের অঙ্ক আরও বাড়বে; যেখানে রাউন্ড অব ৩২-এ জিতলে ৫০ মিলিয়ন ওন, শেষ ষোলোতে ৮০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে ১৪০ মিলিয়ন ওন এবং সেমিফাইনালে জয়ের জন্য মিলবে ২০০ মিলিয়ন ওন। আর ফাইনালে জয় তুলে নিতে পারলে যুক্ত হবে আরও ৩০০ মিলিয়ন ওন।

যদি কোরিয়া এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে বোনাস এবং ম্যাচ প্রতি পারিশ্রমিক মিলিয়ে একেকজন খেলোয়াড়ের মোট প্রাপ্তি প্রায় ১ বিলিয়ন ওন (৮ কোটি ১০ লাখ) ছাড়িয়ে যাবে।

কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য একটি বিশেষ ‘সাপোর্ট প্যাকেজ’ বা পারিবারিক সুবিধার ব্যবস্থাও করেছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। পরিবার বা কাছের বন্ধুদের আবাসন ও খেলা দেখার সুবিধার জন্য প্রতিটি খেলোয়াড়কে দুটি ডাবল হোটেল রুম এবং প্রতি ম্যাচের জন্য ৪টি করে ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট দেওয়া হবে।

কেএফএ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে এবং বর্ধিত ফরম্যাটে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকবে। আর সেই ধকলের কথা বিবেচনা করেই অ্যাসোসিয়েশন তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরের পুরস্কার ও সমর্থনের প্যাকেজ তৈরি করেছে। প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট পুরস্কারের ঘোষণা রেখে আমরা জাতীয় দলকে তাদের লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য আরও বড় অনুপ্রেরণা দিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র, স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় এশিয়ার দেশটি। ২০০২ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ অর্জন ছিল সেমিফাইনালে ওঠা। সেবার শেষ চারে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে অবসান ঘটেছিল তাদের সেই দারুণ যাত্রার।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ জিতলে প্রতি খেলোয়াড় পাবে ১০০ কোটি

আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বিশ্বকাপের আগে জাতীয় দলের জন্য এক নতুন বোনাস কাঠামো ঘোষণা করেছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএফএ)। টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে খেলোয়াড়দের জন্য এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এবারের বর্ধিত বিশ্বকাপ ফরম্যাটের কথা মাথায় রেখেই নতুন এই বোনাস পদ্ধতি সাজানো হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ; ফলে নকআউট পর্যায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি বাড়তি রাউন্ড। টানা ১১ বারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার কৃতিত্ব স্বরূপ স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকেই পাচ্ছেন ৫০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৩৩ হাজার ডলার) করে বেস ফি বা শুরুর পারিশ্রমিক। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ২০ মিলিয়ন ওন।

তবে খেলোয়াড়দের জন্য আসল আর্থিক প্রণোদনা শুরু হবে গ্রুপ পর্বের বাধা পার হওয়ার পর থেকেই। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ পৌঁছাতে পারলেই প্রতি খেলোয়াড় নিশ্চিতভাবে পাবেন ১০০ মিলিয়ন ওন বোনাস। এরপর থেকে নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জিতলেই বোনাসের অঙ্ক ১০০ মিলিয়ন ওন করে বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ, শেষ ষোলোতে উঠলে ২০০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে ৩০০ মিলিয়ন ওন এবং সেমিফাইনালে উঠলে মিলবে ৪০০ মিলিয়ন ওন।

যদি কোরিয়া ফাইনালে পৌঁছাতে পারে, তবে বোনাসের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫০০ মিলিয়ন ওনে; আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেই অঙ্ক গিয়ে ঠেকবে সর্বোচ্চ ৬০০ মিলিয়ন ওনে। এছাড়া টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে পারলেও থাকছে ৪৫০ মিলিয়ন ওনের বোনাস।

কাতার বিশ্বকাপে কোরিয়ার ফুটবলারদের জন্য শেষ ষোলোর জন্য ১০০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য ২০০ মিলিয়ন ওন এবং বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ওন বোনাস নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ধাপভিত্তিক বোনাসের পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচের জন্যও আলাদা জয়ের বোনাস দেওয়া হবে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য প্রতি খেলোয়াড় পাবেন ৩০ মিলিয়ন ওন এবং ড্রয়ের জন্য মিলবে ১০ মিলিয়ন ওন। নকআউট পর্বে এই ম্যাচের বোনাসের অঙ্ক আরও বাড়বে; যেখানে রাউন্ড অব ৩২-এ জিতলে ৫০ মিলিয়ন ওন, শেষ ষোলোতে ৮০ মিলিয়ন ওন, কোয়ার্টার ফাইনালে ১৪০ মিলিয়ন ওন এবং সেমিফাইনালে জয়ের জন্য মিলবে ২০০ মিলিয়ন ওন। আর ফাইনালে জয় তুলে নিতে পারলে যুক্ত হবে আরও ৩০০ মিলিয়ন ওন।

যদি কোরিয়া এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে বোনাস এবং ম্যাচ প্রতি পারিশ্রমিক মিলিয়ে একেকজন খেলোয়াড়ের মোট প্রাপ্তি প্রায় ১ বিলিয়ন ওন (৮ কোটি ১০ লাখ) ছাড়িয়ে যাবে।

কেবল আর্থিক পুরস্কারই নয়, খেলোয়াড়দের জন্য একটি বিশেষ ‘সাপোর্ট প্যাকেজ’ বা পারিবারিক সুবিধার ব্যবস্থাও করেছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। পরিবার বা কাছের বন্ধুদের আবাসন ও খেলা দেখার সুবিধার জন্য প্রতিটি খেলোয়াড়কে দুটি ডাবল হোটেল রুম এবং প্রতি ম্যাচের জন্য ৪টি করে ফার্স্ট-ক্লাস টিকিট দেওয়া হবে।

কেএফএ-এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি দেশের যৌথ আয়োজনে এবং বর্ধিত ফরম্যাটে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ অনেক বেশি থাকবে। আর সেই ধকলের কথা বিবেচনা করেই অ্যাসোসিয়েশন তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরের পুরস্কার ও সমর্থনের প্যাকেজ তৈরি করেছে। প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট পুরস্কারের ঘোষণা রেখে আমরা জাতীয় দলকে তাদের লক্ষ্য ছোঁয়ার জন্য আরও বড় অনুপ্রেরণা দিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ‘এ’ গ্রুপে খেলবে দক্ষিণ কোরিয়া। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ চেক প্রজাতন্ত্র, স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কাছে ৪-১ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় এশিয়ার দেশটি। ২০০২ সালে স্বাগতিক হিসেবে বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ অর্জন ছিল সেমিফাইনালে ওঠা। সেবার শেষ চারে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে অবসান ঘটেছিল তাদের সেই দারুণ যাত্রার।