ঢাকা ০৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শনিবার (৭ মার্চ) যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী-দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ করে টাকা যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস এসব পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে।

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা ওলামা মাশায়েখরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন।

যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।’

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বারকাত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

তিনি আরো বলেন, আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রোজায় আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রোজায় এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল হবে।

এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব

আপডেট সময় : ১১:১০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শনিবার (৭ মার্চ) যমুনায় দেশের আলেম-ওলামা এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধনী-দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি চার কোটি। এসব পরিবারের মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ করে টাকা যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস এসব পরিবারের মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে।

ওলামা মাশায়েখদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা ওলামা মাশায়েখরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন।

যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।’

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বারকাত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।

তিনি আরো বলেন, আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্র সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রোজায় আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রোজায় এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল হবে।

এতিম শিশু ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।