ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন কি না তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৩ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে এসেছিলেন, সেই বাস্তবতার দ্বারাই এটি প্রভাবিত। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই সময় ব্যাপক সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত মাসে ঢাকার বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।

শনিবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।

শেখ হাসিনা কী যতদিন ইচ্ছা ভারতে থাকতে পারবেন? এমন প্রশ্নে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এটা ভিন্ন বিষয়। তিনি যে পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, সেই পরিস্থিতিই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় একটি ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু আবারও বলছি, এটি এমন একটি বিষয় যেখানে শেষ পর্যন্ত তাকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে।’

এরপর আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রতি ভারতের চাওয়ার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যা শুনেছি তা হলো; বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা।’’

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার প্রতিবেশীর জন্য গণতান্ত্রিক পথই কামনা করে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’’ সূত্র: এনডিটিভি।

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন কি না তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: জয়শঙ্কর

আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যে পরিস্থিতিতে তিনি ভারতে এসেছিলেন, সেই বাস্তবতার দ্বারাই এটি প্রভাবিত। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। ওই সময় ব্যাপক সহিংসতায় শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

গত মাসে ঢাকার বিশেষ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনে সরকারি দমন-পীড়নের অভিযোগে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তার অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।

শনিবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এডিটর-ইন-চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।

শেখ হাসিনা কী যতদিন ইচ্ছা ভারতে থাকতে পারবেন? এমন প্রশ্নে জয়শঙ্কর বলেন, ‘এটা ভিন্ন বিষয়। তিনি যে পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন, সেই পরিস্থিতিই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় একটি ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু আবারও বলছি, এটি এমন একটি বিষয় যেখানে শেষ পর্যন্ত তাকেই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে।’

এরপর আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রতি ভারতের চাওয়ার ওপর জোর দেন।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যা শুনেছি তা হলো; বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা।’’

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার প্রতিবেশীর জন্য গণতান্ত্রিক পথই কামনা করে। তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

তিনি বলেন, ‘‘আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’’ সূত্র: এনডিটিভি।