শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ
- আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী।
সরেজমিনে দেখা যায়,বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যাচ্ছে শহীদ বেদী। একই সঙ্গে দলে দলে ফুল হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে প্রবেশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের শুরুটা হয় এই দিনে। এরপর ৯ মাসের প্রাণপণ যুদ্ধের পর অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। যাদের ত্যাগ আর রক্তে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ড সেই বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন আজ।
আজ সারা দেশে নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে ৫৬ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পুরো জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর সেনানীদের।
মানিকগঞ্জে স্কুল শিক্ষক রবিউল আলম জানান, আমি প্রতিবছরই শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এসেছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশ পেয়েছিলাম। তাদের কাছে আমরা চিরঋণী। তাই শহীদ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি বলে জানান তিনি।
অপরদিকে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তানজিন আফরোজা বলেন, আমি বন্ধুদের সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছি। আমরা গর্বিত আমাদের শহীদদের জন্য। তাদের জীবনের বিনিময়ে পরিচিত হয়েছে এই বাংলাদেশ ও আমাদের মাতৃভূমি। তাই তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি বলে জানান তিনি।
এর আগে ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর, সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রদান করে গার্ড অব অনার। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ভোরে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও উত্তোলন করা হয় বড় আকারের জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভবন ও বহুতল ভবনেও পতাকা ওড়ানো হয়।
বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা দেবেন রাষ্ট্রপতি।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল ৮টায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শোভাযাত্রা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর জাহাজ। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা এবং বরিশালে বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে অবস্থান করছে। এছাড়া চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জে কোস্ট গার্ডের জাহাজও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এ উপলক্ষে বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি ও হাডুডুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।
ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাদুঘরগুলো সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। শিশুদের জন্য খোলা রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র।
দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বিভিন্ন কল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।






















জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা, রোববার থেকেই কার্যকর