ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজের কারণেই ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর তীব্র আপত্তি এবং নিজের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার মুখে ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পবিত্র হজ মৌসুমের ঠিক আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বিশেষ করে, আগামী ২৪ মে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাওয়ায় লাখ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ত। এই সময়ে হামলা হলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এর আগে রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালেও, হজ মৌসুমে এ ধরনের পদক্ষেপ আয়োজক দেশ সৌদি আরবের জন্য বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করত। মূলত এই সুনামের ক্ষতি ও লজিস্টিক সংকটের কথা বিবেচনা করেই ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করেন কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার রাতের পরিকল্পিত হামলা থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এখনও একটি সমঝোতা সম্ভব। তবে কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হজ শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল ইরান। তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, এবার তাদের জ্বালানি বা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে এবং সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চলমান অবরোধের কারণে এই অঞ্চলের তেল ও এলএনজি রফতানি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে ওয়াশিংটনের প্রাথমিক হামলাটি ব্যর্থ হয়েছিল। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও ইরানের সরকারকে উৎখাত করা যায়নি। খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহের বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরান টিকে রয়েছে এবং তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনও অক্ষত আছে। এই যুদ্ধে এফ-৩৫ ও এফ-১৫ সহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি এয়ারক্রাফট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরাইল সরকার ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ক্রমাগত উৎসাহিত করলেও, মার্কিন পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ভিন্ন কথা বলছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এই যুদ্ধ বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তাছাড়া নিজস্ব গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলকে ভবিষ্যৎ মার্কিন হামলার সফলতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নিউজটি শেয়ার করুন

হজের কারণেই ইরানে হামলা স্থগিত করলেন ট্রাম্প!

আপডেট সময় : ০৯:৩২:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর তীব্র আপত্তি এবং নিজের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার মুখে ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এবং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পবিত্র হজ মৌসুমের ঠিক আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চালানো হলে মুসলিম বিশ্বে ওয়াশিংটনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বিশেষ করে, আগামী ২৪ মে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে যাওয়ায় লাখ লাখ বিদেশি হজযাত্রীর নিরাপত্তা ও যাতায়াত ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ত। এই সময়ে হামলা হলে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পুরো অঞ্চলের বিমান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এর আগে রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালেও, হজ মৌসুমে এ ধরনের পদক্ষেপ আয়োজক দেশ সৌদি আরবের জন্য বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করত। মূলত এই সুনামের ক্ষতি ও লজিস্টিক সংকটের কথা বিবেচনা করেই ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করেন কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে তিনি মঙ্গলবার রাতের পরিকল্পিত হামলা থেকে সরে এসেছেন। উপসাগরীয় নেতারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে এখনও একটি সমঝোতা সম্ভব। তবে কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হজ শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই যুদ্ধ আবার শুরু হতে পারে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল ইরান। তেহরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, এবার তাদের জ্বালানি বা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে এবং সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে দেবে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের চলমান অবরোধের কারণে এই অঞ্চলের তেল ও এলএনজি রফতানি ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে ওয়াশিংটনের প্রাথমিক হামলাটি ব্যর্থ হয়েছিল। তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও ইরানের সরকারকে উৎখাত করা যায়নি। খামেনির ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহের বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরান টিকে রয়েছে এবং তাদের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনও অক্ষত আছে। এই যুদ্ধে এফ-৩৫ ও এফ-১৫ সহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪২টি এয়ারক্রাফট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরাইল সরকার ট্রাম্পকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ক্রমাগত উৎসাহিত করলেও, মার্কিন পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ভিন্ন কথা বলছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এই যুদ্ধ বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। তাছাড়া নিজস্ব গোলাবারুদের ঘাটতি এবং ইরানের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলকে ভবিষ্যৎ মার্কিন হামলার সফলতার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। সূত্র: মিডল ইস্ট আই