চট্টগ্রামের জঙ্গলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজিরবিহীন যৌথ অভিযান শুরু
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য থেকে মুক্ত করতে নজিরবিহীন যৌথ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকাটিকে পুরোপুরি নিরাপদ করতে এবং অপরাধীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে প্রায় ৩ হাজার সদস্যের বিশাল এক বাহিনী নিয়ে মাঠে নেমেছে যৌথ কমান্ড।
জঙ্গল সলিমপুরের অভিযান নিয়ে সোমবার (৯ মার্চ) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, অনেক বড় অভিযান, যৌথ বাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য জঙ্গল সলিমপুরের অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন বাহিনীর অফিসার এখানে কাজ করছেন। যতক্ষণ সময় লাগবে ততক্ষণ অভিযান চলবে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প হবে। এখানে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা থাকবে। সন্ত্রাসী আস্তানা হিসেবে যেন না থাকে সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত অভিযান। মূলত গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের অবস্থান ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন। পুরো এলাকাটি ঘিরে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অভিযানের পরিধি বাড়াতে সেনাবাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরকে নিরাপদ করতে এবং অপরাধের নেটওয়ার্ক ভাঙতে এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপারেশন চলাকালীন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি এই জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব–৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে।
ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করে র্যাব। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। এতে ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ধরতে গেলে ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার পশ্চিমে অবস্থিত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি। অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য ও দখলকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে একাধিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় প্রধানত দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অন্যটির নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন আগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করেন।
যদিও র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই এবং এ ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।

























সারাদেশে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ১৪ জনের