মোজতবা খামেনির শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার, প্রয়োজন হতে পারে কৃত্রিম অঙ্গের
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
আমেরিকার সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ দাবি করেছে, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি গুরুতর অসুস্থ এবং একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
তার শারীরিক অক্ষমতার সুযোগে দেশটির প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর প্রবীণ কমান্ডারদের হাতে চলে গেছে।
গত মার্চ মাসে পিতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শাসনভার গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোজতবা বর্তমানে কেবল নামমাত্র তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে রয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা, যুদ্ধকৌশল এবং পররাষ্ট্রনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখন গ্রহণ করছে রেভোল্যুশনারি গার্ডের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার পিতার বাসভবনে আমেরিকা ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক ভয়াবহ বিমান হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এরপর থেকেই তিনি কঠোর গোপনীয়তায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যা জানা যায়, তার এক পায়ে ইতোমধ্যে তিনটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং সেখানে একটি কৃত্রিম অঙ্গ লাগানোর প্রয়োজন হতে পারে। একটি হাতেও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, তবে সেটি ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে। ভয়াবহ দগ্ধ হওয়ার ফলে তার মুখমণ্ডল ও ঠোঁট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে তার কথা বলতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে। দ্রুতই তার প্লাস্টিক সার্জারি করা হতে পারে।
মোজতবা খামেনি বর্তমানে কোথায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তা চরম গোপনীয় রাখা হয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (যিনি নিজে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ) তার চিকিৎসার সাথে যুক্ত থাকলেও, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা তার সাথে সরাসরি দেখা করছেন না। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হচ্ছে না। পরিবর্তে, এক বিশেষ রিলে সিস্টেম বা বার্তাবাহক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চিরকুট পাঠিয়ে তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় থেকেই রেভোল্যুশনারি গার্ডের সাথে মোজতবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে বর্তমানে তার এই শারীরিক অবস্থা সামরিক বাহিনীকে দেশটির একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শক্তিতে পরিণত করেছে। যদিও দেশটির সংস্কারপন্থী ও কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনায় রয়েছে, তবে যুদ্ধের এই আবহে কমান্ডারেরাই এখন ইরানের ভাগ্যনির্ধারক হয়ে উঠেছেন। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


























হাম উপসর্গে একদিনে ১১ মৃত্যু, হাসপাতালে ১০৫৮