ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেবে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। রাজধানী মস্কোতে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদের উপস্থিতিতে এই সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে তালেবানের আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থল সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ড্রোনের মতো কোনো হামলার সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াকুবের জন্য কোনো আঞ্চলিক দেশের সাথে এটিই প্রথম সামরিক চুক্তি। মূলত কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষায় দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর থেকেই আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সামরিক সরঞ্জাম পেতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে তালেবান সরকার।

গত মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে আগে থেকেই নির্ধারিত মস্কো সফরে যান আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেখানে সের্গেই শোইগুর সঙ্গে এক বৈঠকে মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, রাশিয়া এই অঞ্চল ও বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুজাহিদ জানিয়েছেন, বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলোকে দমনে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এছাড়া, আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তালেবান কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছেন। যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এতে পুরোপুরি দূর হয়নি।

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় এলে যেসব দেশ কাবুলে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের অন্যতম। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২২ সালে তারা তালেবান সরকারের সাথে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ শুরু করে। সূত্র: ফক্স নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

আফগানিস্তানকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেবে রাশিয়া

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, স্থল সামরিক সরঞ্জাম এবং সামরিক বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। রাজধানী মস্কোতে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সের্গেই শোইগু এবং তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদের উপস্থিতিতে এই সামরিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

কাবুলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাওয়ার বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে তালেবানের আগেই আলোচনা হয়েছিল এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থল সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ড্রোনের মতো কোনো হামলার সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ ইয়াকুবের জন্য কোনো আঞ্চলিক দেশের সাথে এটিই প্রথম সামরিক চুক্তি। মূলত কিছুদিন আগে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর পর আফগানিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষায় দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর থেকেই আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ সামরিক সরঞ্জাম পেতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠে তালেবান সরকার।

গত মঙ্গলবার (২৬ মে) একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে আগে থেকেই নির্ধারিত মস্কো সফরে যান আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সেখানে সের্গেই শোইগুর সঙ্গে এক বৈঠকে মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ বলেন, রাশিয়া এই অঞ্চল ও বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এবং এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো আফগানিস্তানে জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুজাহিদ জানিয়েছেন, বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলোকে দমনে তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এছাড়া, আফগানিস্তানের মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কাউকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে তালেবান কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছেন। যদিও প্রতিবেশী দেশগুলোর দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ এতে পুরোপুরি দূর হয়নি।

২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় এলে যেসব দেশ কাবুলে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করেনি, রাশিয়া তাদের অন্যতম। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। ২০২২ সালে তারা তালেবান সরকারের সাথে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষর করে তেল, গ্যাস ও গম সরবরাহ শুরু করে। সূত্র: ফক্স নিউজ