পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করার মোদির স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ!
- আপডেট সময় : ০২:৫২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
এক দশক আগে ২০১৬ সালে উরিতে সেনা হামলার পর পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভারতের সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশল উল্টো দিল্লির জন্যই বুমেরাং হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, চীনের অব্যাহত সমর্থন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান বৈশ্বিক কূটনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে কাশ্মীর নীতি, ইসরায়েলঘেঁষা অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত টানাপোড়েনের কারণে ভারত অনেকটাই চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করলেও ভারত তৃতীয় পক্ষের এই হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধিতা করে। ট্রাম্প এ যুদ্ধবিরতিকে তার অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দাবি করলেও ভারতের অনীহা ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কে শীতলতা তৈরি করেছে। উল্টো ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন এবং হোয়াইট হাউসে তাদের আতিথ্য দিয়েছেন, যা ভারতের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ ও জোটনিরপেক্ষ নীতি থেকে সরে আসার বিষয়টিও এখন স্পষ্ট। সার্ক বয়কট করে ভারত বিমসটেক-এর দিকে নজর দিলেও আঞ্চলিকভাবে প্রতিবেশীদের (যেমন বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ) সঙ্গে আগের মতো সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থন থেকে সরে গিয়ে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে ভারত। গাজা ও ইরানে ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যেও ভারতের এই সমর্থন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ক্ষুব্ধ করেছে। ঠিক এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করেছে। এছাড়া ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর বৈষম্য ও ইসলামোফোবিয়ার অভিযোগকে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ফোরামে সফলভাবে তুলে ধরেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে শুল্কযুদ্ধ এবং বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে টানাপোড়েন চললেও, পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যাবশ্যক বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত ‘কোয়াড’ জোটের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ কমে যাওয়ায় ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে অংশীদারত্ব এখনও বহাল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূরাজনৈতিক জটিলতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও রয়েছে কাশ্মীর ইস্যু। কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং চরম সামরিকীকরণের ফলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই উত্তেজনার একমাত্র সমাধান হলো ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পুনরায় উচ্চপর্যায়ের সংলাপ শুরু করা। সংঘাত, আক্রমণ ও কূটনৈতিক শীতলতার এই চক্র ভাঙতে দুই দেশকেই অতিরাষ্ট্রবাদী বয়ান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায়, চীনের সামরিক সমর্থনপুষ্ট পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের যেকোনো নতুন সংঘাত পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা























পাকিস্তানকে ‘একঘরে’ করার মোদির স্বপ্ন পুরোপুরি ব্যর্থ!