শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর চৈত্র সংক্রান্তি শনিবার আওয়ামী লীগ পুলিশ লীগে পরিণত: মির্জা ফখরুল `বিএনপি ককটেল পার্টি করেনি, ইফতার পার্টি করেছে’ ইরান-ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান রাশিয়াসহ পরাশক্তিগুলোর যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা কিমের দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ রোনালদো ৪ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু ভারতীয় পণ্য বর্জন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচী নয়: খসরু সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে চলছে টান টান উত্তেজনা আটলান্টার কাছে বড় ব্যবধানে হারলো লিভারপুল রেকর্ড ১৭টি `ডাক` ইনিংস ম্যাক্সওয়েলের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবী উৎসব শুরু কমেনি মুরগির দাম, বেড়েছে সবজির

আত্মসমর্পণ না করে দেশ ছাড়লেন হাজি সেলিম

রিপোর্টারের নাম :
আপডেট : মে ২, ২০২২

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ড নিয়ে দেশ ছেড়েছেন আওয়ামী লীগের সাংসদ হাজি সেলিম। গত শনিবার বিকেলে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক যান।

হাজি সেলিমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আজ সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাজি সেলিমের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র বলছে, শনিবার তিনটি গাড়ির একটি বহর নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান হাজি সেলিম। সেখানে কবর জিয়ারত করে বিমানবন্দরে যান।

তবে এ সময় তার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিলেন না। গাড়ির চালকেরাও আগে থেকে জানতেন না তারা কোথায় যাচ্ছেন। হাজি সেলিম সব সময় যে গাড়ি ব্যবহার করেন, ওই দিন সে গাড়িতে যাননি। চালকও ছিলেন আরেকজন।

সূত্রটি আরও জানায়, হাজি সেলিমের সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠ কেউ যাননি। তিনি যাওয়ার আগে বা পরে ঘনিষ্ঠ কেউ ব্যাংকক গিয়ে থাকতে পারেন। চিকিৎসার কথা বলে তিনি ব্যাংকক গিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হাজি সেলিমের বড় ছেলে সোলাইমান সেলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলে সেটি অন্য একজন রিসিভ করেন এবং তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

তবে সোলাইমান সেলিম গতকাল রবিবার এক টেলিভিশনের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, তার বাবা এখন দেশে নেই। এ বিষয়ে জানতে হাজি সেলিমের ব্যক্তিগত সহকারী মহিউদ্দিন বেলালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজি সেলিমের ১০ বছর সাজা বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে হাজি সেলিমকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই সময়সীমার মধ্যেই আওয়ামী লীগের এই সাংসদ দেশ ছেড়েছেন।

দুর্নীতির মামলায় এক যুগ আগে বিচারিক আদালতের রায়ে সাংসদ হাজি সেলিমের ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাজি সেলিম হাইকোর্টে আপিল করেন।

এই আপিলের শুনানি নিয়ে গত বছরের ৯ মার্চ বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়।

এ অবস্থায় হাজি সেলিমকে দেশত্যাগে সহায়তাকারীরা অপরাধ করেছেন বলে মনে করছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক)।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার আদেশ দিয়েছেন। সে অবস্থায় সেই ব্যক্তি কোনোভাবেই দেশত্যাগ করতে পারেন না। যারা তাকে দেশত্যাগ করতে সাহায্য করেছেন, তারা মস্ত বড় অপরাধ করেছেন। তারা সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন। এখন তিনি দেশে ফিরে না এলে তখন কী হবে? সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাও কম।’


এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ