ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদায় বাংলা বর্ষ: জলে ভাসল বিজুর ফুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “ফুল বিজু” উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। ফুল বিজু মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। এই দিনটিতে মানুষ প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য।

বাংলা বর্ষ বিদায়কে কেন্দ্র করে পাহাড়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নানা আনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করে থাকে। বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে দিনটি উদযাপন করে থাকে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি ‘ফুল বিজু’ নামে বেশি পরিচিত। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসলো বিজুর ফুল। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া-খালগুলোতে নেমে আসে উৎসবের আমেজ।

রোববার (১২ এপ্রিল) শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ পাড়ায় পাড়ায় ঘাটে ঘাটে বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান উদযাপনকে কেন্দ্র করে হ্রদে ফুল ভাসানো হয়।

পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিজু, বিহু, বৈসুক, সাংগ্রাই, চাংক্রানসহ নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এ সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি পল্লীগুলো।

এদিন ভোরে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বসয়ী পাহাড়িরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে। ২৯ চৈত্রের খুব ভোরে মা গঙ্গা’র উদ্দেশে কাপ্তাই হ্রদের ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয় মূল আয়োজন।

উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের পিনোন হাদি পরে আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি/ফতুয়া পরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠে।

আগামীকাল উদযাপিত হবে চাকমাদের মূল বিজু। আর বাংলা নববর্ষের দিন পালিত হবে ‘গজ্জাপজ্জা’, যা নতুন বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনার অংশ।

শুধু চাকমা নয়, পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। আগামীকাল ত্রিপুরা সম্প্রদায় চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু করবে তিনদিনব্যাপী ‘বৈসু’ উৎসব। ‘হারিবৈসু’ দিনে নদীতে ফুল পূজা এবং শিশুদের অংশগ্রহণে রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘গরয়া নৃত্য’ এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

মারমা সম্প্রদায় পালন করবে ‘সাংগ্রাইং’ উৎসব। ১৪ এপ্রিল থেকে তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে বুদ্ধ পূজা, বয়োজ্যেষ্ঠদের পবিত্র জল দিয়ে স্নান করানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘রি-আকাজা’ বা পানি উৎসব, যেখানে সবাই একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

পার্বত্য অঞ্চলের এসব উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি লালন করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেন। বর্ষবরণকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের রঙ, গান, নৃত্য আর মানুষের মিলনমেলা যেখানে নতুন বছরের স্বপ্নে ভরে উঠছে সবার মন।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদায় বাংলা বর্ষ: জলে ভাসল বিজুর ফুল

আপডেট সময় : ১১:১৭:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “ফুল বিজু” উদযাপনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। ফুল বিজু মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। এই দিনটিতে মানুষ প্রার্থনা করেন শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখের জন্য।

বাংলা বর্ষ বিদায়কে কেন্দ্র করে পাহাড়ে ভিন্ন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নানা আনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করে থাকে। বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে দিনটি উদযাপন করে থাকে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি ‘ফুল বিজু’ নামে বেশি পরিচিত। রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসলো বিজুর ফুল। খাগড়াছড়ির চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া-খালগুলোতে নেমে আসে উৎসবের আমেজ।

রোববার (১২ এপ্রিল) শহরের রাজবাড়ি, গর্জনতলী, কেরানীপাহাড়সহ পাড়ায় পাড়ায় ঘাটে ঘাটে বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান উদযাপনকে কেন্দ্র করে হ্রদে ফুল ভাসানো হয়।

পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বিজু, বিহু, বৈসুক, সাংগ্রাই, চাংক্রানসহ নানা নামে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এ সামাজিক আয়োজনে ব্যস্ত এখন শহর, নগর আর পাহাড়ি পল্লীগুলো।

এদিন ভোরে সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা বসয়ী পাহাড়িরা ফুল নিয়ে আসতে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে। ২৯ চৈত্রের খুব ভোরে মা গঙ্গা’র উদ্দেশে কাপ্তাই হ্রদের ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শুরু হয় মূল আয়োজন।

উৎসবে নারীরা বাহারি রঙের পিনোন হাদি পরে আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি/ফতুয়া পরে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর উৎসবে মেতে ওঠে।

আগামীকাল উদযাপিত হবে চাকমাদের মূল বিজু। আর বাংলা নববর্ষের দিন পালিত হবে ‘গজ্জাপজ্জা’, যা নতুন বছরের আনুষ্ঠানিক সূচনার অংশ।

শুধু চাকমা নয়, পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও চলছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। আগামীকাল ত্রিপুরা সম্প্রদায় চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু করবে তিনদিনব্যাপী ‘বৈসু’ উৎসব। ‘হারিবৈসু’ দিনে নদীতে ফুল পূজা এবং শিশুদের অংশগ্রহণে রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘গরয়া নৃত্য’ এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।

মারমা সম্প্রদায় পালন করবে ‘সাংগ্রাইং’ উৎসব। ১৪ এপ্রিল থেকে তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনে থাকবে বুদ্ধ পূজা, বয়োজ্যেষ্ঠদের পবিত্র জল দিয়ে স্নান করানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘রি-আকাজা’ বা পানি উৎসব, যেখানে সবাই একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

পার্বত্য অঞ্চলের এসব উৎসব শুধু আনন্দের নয়, বরং সম্প্রীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতি লালন করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের বার্তা ছড়িয়ে দেন। বর্ষবরণকে ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের রঙ, গান, নৃত্য আর মানুষের মিলনমেলা যেখানে নতুন বছরের স্বপ্নে ভরে উঠছে সবার মন।