ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাইওয়ানকে স্বাধীন ঘোষণা না করার বার্তা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের হাই-প্রোফাইল শীর্ষ বৈঠক শেষ করার পরপরই তাইওয়ানকে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্বশাসিত এই দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ নতুন করে স্বাধীন হয়ে যাক।’

অবশ্য তাইওয়ানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে একাধিকবার বলেছেন, তাইওয়ানের নতুন করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, তাইওয়ান ইতোমধ্যে নিজেকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে।

দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে সবসময়ই এক ধরনের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের নীতি মেনে চলতে হয়।

অধিকাংশ তাইওয়ানবাসী নিজেদের একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র মনে করলেও, তারা এখনই যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে রাজী নয়। ফলে তারা বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কুয়ো) বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের অংশও হবে না, আবার নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দূর দেশে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, একটা যুদ্ধ করার জন্য আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাইছি না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। তবে চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং এই দ্বীপটির ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তিনি সেখানে কোনোভাবেই স্বাধীনতার আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে হ্যান্ডেল করা হলে দুই পরাশক্তি সরাসরি সংঘর্ষ বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, না, আমি তেমনটা মনে করি না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে। শি জিনপিংও যুদ্ধ চান না।

নিউজটি শেয়ার করুন

তাইওয়ানকে স্বাধীন ঘোষণা না করার বার্তা ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের হাই-প্রোফাইল শীর্ষ বৈঠক শেষ করার পরপরই তাইওয়ানকে বড় ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্বশাসিত এই দ্বীপটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খবর বিবিসি

বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক শেষে শুক্রবার (১৫ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ নতুন করে স্বাধীন হয়ে যাক।’

অবশ্য তাইওয়ানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে একাধিকবার বলেছেন, তাইওয়ানের নতুন করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, তাইওয়ান ইতোমধ্যে নিজেকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই বিবেচনা করে।

দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে সবসময়ই এক ধরনের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের নীতি মেনে চলতে হয়।

অধিকাংশ তাইওয়ানবাসী নিজেদের একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র মনে করলেও, তারা এখনই যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে রাজী নয়। ফলে তারা বর্তমান পরিস্থিতি (স্ট্যাটাস কুয়ো) বজায় রাখার পক্ষে, যেখানে তাইওয়ান চীনের অংশও হবে না, আবার নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণাও করবে না।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দূর দেশে মার্কিন সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, একটা যুদ্ধ করার জন্য আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল পথ পাড়ি দিতে হবে। আমি তেমন কিছু চাইছি না। আমি চাই তারা শান্ত হোক। আমি চাই চীনও শান্ত থাকুক।

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে বিমানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। তবে চীন আক্রমণ করলে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে রক্ষা করবে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং এই দ্বীপটির ব্যাপারে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তিনি সেখানে কোনোভাবেই স্বাধীনতার আন্দোলন দেখতে চান না।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে হ্যান্ডেল করা হলে দুই পরাশক্তি সরাসরি সংঘর্ষ বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।

তবে চীনের সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, না, আমি তেমনটা মনে করি না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে। শি জিনপিংও যুদ্ধ চান না।