ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ালেন ইয়ামাল, স্পেন-ইসরায়েলে চরম উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ১২:২৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তপ্ত বিতর্ক। স্প্যানিশ লিগ জয়ের উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করায় এই ফুটবলারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তাঁর মতে, ইয়ামালের এই কাজ ‘ঘৃণা ছড়ানোর’ শামিল।
গত সোমবার লিগ জয় উপলক্ষে বার্সেলোনা শহরজুড়ে একটি ছাদখোলা বাস প্যারেডের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের সেই ভিড়ে ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালকে একটি বড় আকারের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। পরে মুসলিম এই ফুটবলার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও সেই ছবি পোস্ট করেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্সে’ (সাবেক টুইটার) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ লেখেন, ‘লামিন ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। যখন আমাদের সৈন্যরা হামাসের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে—যারা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছে।’
ইসরায়েলি মন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর চুপ থাকেনি স্পেন সরকারও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইয়ামালের এই কাজকে সমর্থন জানিয়ে পাল্টা বার্তা দিয়েছেন। সানচেজ বলেন, ইয়ামাল কেবল সেই সংহতিই প্রকাশ করেছেন যা লাখ লাখ স্প্যানিশ নাগরিক ফিলিস্তিনের প্রতি অনুভব করেন।
ইসরায়েল কাটজের নাম উল্লেখ না করে সানচেজ লেখেন, ‘যারা মনে করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো মানেই ঘৃণা ছড়ানো, তারা হয় কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছে নতুবা নিজেদের হীনমন্যতায় অন্ধ হয়ে গেছে।’
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনেও। স্পেনের সরকার এবং সাধারণ মানুষ প্রথম থেকেই ইসরায়েলের এই অভিযানের কড়া সমালোচক।
বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক এ বিষয়ে সরাসরি তর্কে না জড়িয়ে জানিয়েছেন, পতাকা ওড়ানোর বিষয়টি ইয়ামালের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল।
আগামী মাসে উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে মাঠে নামবেন ইয়ামাল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই রাজনৈতিক ইস্যু নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালো।



























২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ১২ জনের মৃত্যু