বিশ্বমঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত ‘১০ নম্বর’ রাজপুত্ররা
- আপডেট সময় : ০৮:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ফুটবল বিশ্বে ‘১০ নম্বর’ জার্সিটা শুধু একটা সংখ্যা নয়; এটি একটি আবেগ, ঐতিহ্য ও মাঠের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। পেলে, ম্যারাডোনা থেকে শুরু করে লিওনেল মেসি-জিনেদিন জিদান—ইতিহাসের সেরা জাদুকরেরা এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে ফুটবলকে দিয়েছেন এক ভিন্ন মাত্রা। ফুটবল মাঠে সৃজনশীলতা, ক্ষুরধার আক্রমণ, নেতৃত্ব আর অতিমানবীয় প্রতিভার আরেক নামই যেন ‘১০ নম্বর’।
২০২৬ বিশ্বকাপে এসে এই ঐতিহ্যের পরিধিটা আরও বড় হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপের ৩২ দলের গণ্ডি পেরিয়ে এবারই প্রথম বিশ্বমঞ্চে লড়াই করবে ৪৮টি দেশ। আর এই ৪৮টি দলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ও সেনাপতি হয়ে মাঠ কাঁপাবেন ৪৮ জন ‘১০ নম্বর’ জার্সিধারী ফুটবলার। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে কার গায়ে উঠছে এই মহিমান্বিত জার্সি? চেনা তারকা থেকে শুরু করে উদীয়মান তরুণ—কাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে পুরো বিশ্ব? চলুন দেখে নেওয়া যাক ৪৮ দলের সেই ১০ নম্বরদের চালচিত্র।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য সবকিছু জেতার পর কাতার বিশ্বকাপে পরম আরাধ্য সেই সোনালী ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরেছিলেন। এবার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে নিজের শেষ বিশ্বকাপে পা রাখছেন এই ফুটবল মহাজাদুকর। এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে তাঁর শেষ নাচ। ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসেও তাঁর গায়েই থাকছে আলবিসেলেস্তেদের ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি। কাতার জয়ের পর এবার মুকুট ধরে রাখার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামবেন এলএমটেন।
ফ্রান্সের ১০ নম্বর জার্সি পরবেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন গ্যালাকটিকোকে বলা হচ্ছে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মাত্র ২৭ বছর বয়সেই দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা এবং একটি ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ১৩টি গোলের মালিক ‘কিকি’। এবার তাঁর সামনে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার করা বিশ্বকাপের অল-টাইম সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডটি ভেঙে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। ফরাসিদের আক্রমণের মূল অস্ত্র হয়ে এবারও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করতে প্রস্তুত এই গতিদানব।
ব্রাজিল ভক্তদের জন্য বুক ধড়ফড়ানি নাম ‘নেইমার জুনিয়র’। সেলেসাওদের এই ১০ নম্বর মহাতারকা দীর্ঘদিন ধরেই চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন। বিশ্বকাপে তাঁর খেলার সময়সীমা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে কার্লো আনচেলত্তির অধীনে হলুদ জার্সিতে এটাই হতে পারে নেইমারের শেষ বিশ্বকাপ। চোটের কারণে মাঠে কতটা সময় দিতে পারবেন তা নিশ্চিত না হলেও, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মনে ভয় ধরাতে এখনো নেইমারের নামটাই যথেষ্ট। নিজের বর্ণিল ক্যারিয়ারের একমাত্র অধরা ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বেন এই ব্রাজিলিয়ান জাদুকর।
জার্মান ফুটবলের গত কয়েক বছরের হতাশা (রাশিয়া ও কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়) কাটাতে এবার ডাই ম্যানশাফটদের প্রধান ভরসা ২৩ বছর বয়সী জামাল মুসিয়ালা। বায়ার্ন মিউনিখের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার তাঁর ক্ষিপ্রতা, প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা এবং সৃজনশীল ফুটবল দিয়ে নতুন প্রজন্মের আশা জাগিয়েছেন। জার্মানির ঐতিহ্যবাহী ১০ নম্বর জার্সি এবার থাকছে তাঁর গায়েই।
স্পেনের আক্রমণভাগের তাসের টেক্কা হতে যাচ্ছেন বার্সেলোনার দানি ওলমো। মাঠে বুদ্ধিদীপ্ত পজিশনিং আর দুর্দান্ত টেকনিক্যাল স্কিল দিয়ে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি। ‘লা রোহাদের নকআউট পর্বে নিয়ে যাওয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে এই ১০ নম্বর কাণ্ডারির কাঁধেই।
পর্তুগাল শিবিরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পাশে অভিজ্ঞতার আলো ছড়াবেন ম্যানচেস্টার সিটি ও ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার বার্নার্ডো সিলভা। তাঁর ফুটবলীয় দূরদর্শিতা এবং নিখুঁত পাসিং পর্তুগিজদের বড় শক্তি।
বিশ্বকাপে থ্রি লায়ন্সদের ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠ কাঁপাবেন জুড বেলিংহাম। নিজে গোল করার পাশাপাশি তাঁর কি পাসগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরি দিতে পারে। ইংল্যান্ডের কি প্লেয়ার বেলিংহাম।
এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে তিনটি দেশ—মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। নিজেদের চেনা আঙিনায় গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে স্বাগতিকদের নেতৃত্ব দেবেন তিন তরুণ তুর্কি:
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র): এসি মিলানের এই ফরোয়ার্ড ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন। মাঠ এবং মাঠের বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চালিকাশক্তি তিনি।
অ্যালেক্সিস ভেগা (মেক্সিকো): তোলুকার এই তারকা মেক্সিকান আক্রমণের মূল ভরসা। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে কাতার বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দিতে চান তিনি।
জনাথন ডেভিড (কানাডা): জুভেন্টাসের এই স্ট্রাইকার ইউরোপের বুকে প্রতিনিয়ত নিজের গোলবন্যা ছুটিয়ে চলেছেন। কানাডার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এবার সব আলো থাকবে তাঁর ওপরেই।
এক নজরে ৪৮ দলের ‘১০ নম্বর’ জার্সির মালিকেরা
গ্রুপ-এ
জেসুং লি (দক্ষিণ কোরিয়া)
অ্যালেক্সিস ভেগা (মেক্সিকো)
প্যাত্রিক শিক (চেক প্রজাতন্ত্র)
রেলেবোহিল মোফোকেনগ (দক্ষিণ আফ্রিকা)
গ্রুপ-বি
জনাথন ডেভিড (কানাডা)
এরমেদিন দেমিরোভিচ (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
হাসান আল-হাইদোস (কাতার)
গ্রানিত জাকা (সুইজারল্যান্ড)
গ্রুপ-সি
নেইমার জুনিয়র (ব্রাজিল)
চে অ্যাডামস (স্কটল্যান্ড)
জঁ-রিকনার বেলেগার্দ (হাইতি)
ব্রাহিম দিয়াজ (মরক্কো)
গ্রুপ-ডি
ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক (যুক্তরাষ্ট্র)
আজদিন হ্রুস্টিচ (অস্ট্রেলিয়া)
মিগুয়েল আলমিরন (প্যারাগুয়ে)
হাকান চালহানোগ্লু (তুরস্ক)
গ্রুপ-ই
জামাল মুসিয়ালা (জার্মানি)
সিমন আদিংগ্রা (আইভরি কোস্ট)
লেয়ান্দ্রো বাকুনা (কুরাসাও)
কেন্দ্রি পায়েজ (ইকুয়েডর)
গ্রুপ-এফ
মেমফিস ডিপাই (নেদারল্যান্ডস)
রিতসু দোয়ান (জাপান)
বেঞ্জামিন নিগ্রেন (সুইডেন)
হানিবাল মেজব্রি (তিউনিসিয়া)
গ্রুপ-জি
লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড (বেলজিয়াম)
মোহাম্মদ সালাহ (মিশর)
মেহেদি গায়েদি (ইরান)
সারপ্রিত সিং (নিউজিল্যান্ড)
গ্রুপ-এইচ
দানি ওলমো (স্পেন)
জিওর্জিয়ান ডি অ্যারাসকায়েটা (উরুগুয়ে)
সালেম আল-দাওসারী (সৌদি আরব)
জামিরো মন্তেইরো (কেপ ভার্দে)
গ্রুপ-আই
কিলিয়ান এমবাপে (ফ্রান্স)
আলি মোহনাদ (ইরাক)
মার্টিন ওডেগার্ড (নরওয়ে)
সাদিও মানে (সেনেগাল)
গ্রুপ-জে
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
ফারেস শাইবি (আলজেরিয়া)
ফ্লোরিয়ান গ্রিলিচ (অস্ট্রিয়া)
মুসা আল-তামারি (জর্ডান)
গ্রুপ-কে
বার্নার্ডো সিলভা (পর্তুগাল)
হামেস রদ্রিগেস (কলম্বিয়া)
থিও বঙ্গোন্ডা (কঙ্গো – ডিআর)
জালোলিদ্দিন মাশারিপভ (উজবেকিস্তান)
গ্রুপ-এ
লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া)
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
ব্র্যান্ডন থমাস-আসান্ট (ঘানা)
ইসমায়েল দিয়াজ (পানামা)


























রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী