ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেলেন রাজকুমারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর মারা গেছেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাজপ্রাসাদ থেকে আরও জানানো হয়, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ ও নিবিড় চিকিৎসা সেবা দিলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কুকুর নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা। চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলে তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজকুমারী সোমসাওয়ালির গর্ভে জন্মগ্রহণ করা বাজরাকিতিইয়াভা ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করা এই রাজকুমারী যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে কাজ করেন এবং দেশে ফিরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।

রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা বিশেষভাবে কারাগার সংস্কার এবং নারী বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। বিশ্বে নারী বন্দির সংখ্যার দিক থেকে থাইল্যান্ড অন্যতম শীর্ষস্থানে থাকায় তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনবিষয়ক জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই রাজকুমারী নিয়মিত দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিতেন। ২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাঁকে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন। নিজের দক্ষতা ও রাজার আস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দেশটির প্রচলিত রীতিতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সাধারণত পুরুষ হলেও, ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনী অনুযায়ী একজন নারীরও সিংহাসনে বসার আইনি সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি

নিউজটি শেয়ার করুন

৩ বছর কোমায় থাকার পর মারা গেলেন রাজকুমারী

আপডেট সময় : ০২:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় থাকার পর মারা গেছেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজপ্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাজপ্রাসাদ থেকে আরও জানানো হয়, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ ও নিবিড় চিকিৎসা সেবা দিলেও তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটতে থাকে।

২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কুকুর নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা। চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ফলে তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজকুমারী সোমসাওয়ালির গর্ভে জন্মগ্রহণ করা বাজরাকিতিইয়াভা ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করা এই রাজকুমারী যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে কাজ করেন এবং দেশে ফিরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।

রাজকুমারী বাজরাকিতিইয়াভা বিশেষভাবে কারাগার সংস্কার এবং নারী বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। বিশ্বে নারী বন্দির সংখ্যার দিক থেকে থাইল্যান্ড অন্যতম শীর্ষস্থানে থাকায় তিনি এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনবিষয়ক জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই রাজকুমারী নিয়মিত দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিতেন। ২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাঁকে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন। নিজের দক্ষতা ও রাজার আস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দেশটির প্রচলিত রীতিতে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সাধারণত পুরুষ হলেও, ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনী অনুযায়ী একজন নারীরও সিংহাসনে বসার আইনি সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বিবিসি