ঢাকা ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে এবং ১৯ জন খসড়া পলাতককে (ড্রাফট ডজার) গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কট্টরপন্থী আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার রাতের এই বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় মহাসড়ক এবং রেলপথ প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

‘জেরুজালেম ফ্যাকশন’ নামের একটি চরমপন্থী গোষ্ঠীর ডাকে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির বাড়ির সামনে থেকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনকে বুধবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে হস্তান্তর করার পরপরই এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা জেরুজালেম, বেইট শেমেশ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তেল আবিবের রুট ১, ৪, ৬ এবং আয়ালন হাইওয়ের মতো প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা রেললাইনে নেমে এলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেরুজালেম থেকে তেল আবিবগামী ট্রেনের শত শত যাত্রীকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়। এর পাশাপাশি, একই রাতে বড় কয়েকটি কনসার্ট থাকায় যানজটের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে।

অবরোধ চলাকালে রুট ৪-এ পৃথক দুটি গাড়িচাপার ঘটনায় কমপক্ষে দুজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মাথায় আঘাত পেয়ে মাঝারি থেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নারী চালক বিক্ষোভকারীদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার পর নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ওই নারীর দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাকে গালিগালাজ করে ও গাড়িতে পাথর ছুঁড়ে মারলে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেন শেমেন ইন্টারচেঞ্জে কিছু বিক্ষোভকারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের দ্বারা ইহুদিদের পরতে বাধ্য করা হলুদ তারার আদলে ব্যাজ পরে রাস্তায় বসে পড়েন। তবে সেই তারায় ‘ইহুদি’ লেখার বদলে লেখা ছিল ‘পলাতক’। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করলেও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা বা সাধারণ চালকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে বহুমুখী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে দেশটির হাইকোর্ট হারেদি পুরুষদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করে রায় দেয়। তবে আল্ট্রা-অর্থোডক্স নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, সামরিক সেবা তাদের ধর্মীয় জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তারা ধর্মীয় অধ্যয়নকেই (তোরাহ পাঠ) সামরিক সেবার সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃতি চান। গত দুই বছরে সেনাবাহিনী হাজার হাজার নিয়োগের আদেশ পাঠালেও এই সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষই তা উপেক্ষা করেছেন। ফলে বিপুল সংখ্যক যুবককে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হচ্ছে, যা দেশটিতে এক গভীর সামাজিক ও আইনি দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:৩১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইসরায়েলে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে এবং ১৯ জন খসড়া পলাতককে (ড্রাফট ডজার) গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কট্টরপন্থী আল্ট্রা-অর্থোডক্স বা হারেদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ। বৃহস্পতিবার রাতের এই বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় মহাসড়ক এবং রেলপথ প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

‘জেরুজালেম ফ্যাকশন’ নামের একটি চরমপন্থী গোষ্ঠীর ডাকে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতির বাড়ির সামনে থেকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনকে বুধবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কাছে হস্তান্তর করার পরপরই এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা জেরুজালেম, বেইট শেমেশ-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তেল আবিবের রুট ১, ৪, ৬ এবং আয়ালন হাইওয়ের মতো প্রধান সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা রেললাইনে নেমে এলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেরুজালেম থেকে তেল আবিবগামী ট্রেনের শত শত যাত্রীকে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে নেমে যেতে বাধ্য করা হয়। এর পাশাপাশি, একই রাতে বড় কয়েকটি কনসার্ট থাকায় যানজটের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে।

অবরোধ চলাকালে রুট ৪-এ পৃথক দুটি গাড়িচাপার ঘটনায় কমপক্ষে দুজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মাথায় আঘাত পেয়ে মাঝারি থেকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নারী চালক বিক্ষোভকারীদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার পর নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ওই নারীর দাবি, বিক্ষোভকারীরা তাকে গালিগালাজ করে ও গাড়িতে পাথর ছুঁড়ে মারলে আতঙ্কিত হয়ে তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেন শেমেন ইন্টারচেঞ্জে কিছু বিক্ষোভকারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিদের দ্বারা ইহুদিদের পরতে বাধ্য করা হলুদ তারার আদলে ব্যাজ পরে রাস্তায় বসে পড়েন। তবে সেই তারায় ‘ইহুদি’ লেখার বদলে লেখা ছিল ‘পলাতক’। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান করলেও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা বা সাধারণ চালকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে বহুমুখী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে দেশটির হাইকোর্ট হারেদি পুরুষদের জন্য সামরিক বাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক করে রায় দেয়। তবে আল্ট্রা-অর্থোডক্স নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, সামরিক সেবা তাদের ধর্মীয় জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং তারা ধর্মীয় অধ্যয়নকেই (তোরাহ পাঠ) সামরিক সেবার সমতুল্য হিসেবে স্বীকৃতি চান। গত দুই বছরে সেনাবাহিনী হাজার হাজার নিয়োগের আদেশ পাঠালেও এই সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষই তা উপেক্ষা করেছেন। ফলে বিপুল সংখ্যক যুবককে পলাতক হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হচ্ছে, যা দেশটিতে এক গভীর সামাজিক ও আইনি দ্বন্দ্বের জন্ম দিয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল