ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
বৃত্তান্ত২৪ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিভে গেল এক উজ্জ্বল প্রাণ। লিভারের দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছিলেন তরুণ অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে নেয়া হয়েছিল ভারতের চেন্নাইয়ে। জানা যায়, তাঁর ভাই করিনাকে লিভার ডোনেট করবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন করিনা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কারিনার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানান, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।

কয়েক দিন ধরেই লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। বাংলাদেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে চেন্নাইয়ের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত কয়েক দিন ধরে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভক্ত ও সহকর্মীরা তাঁর আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হলো না কারিনার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনা কায়সার ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষ করে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় এবং জীবনধর্মী কনটেন্ট দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ছিল। ইউটিউব এবং ফেসবুকে তাঁর বিশাল অনুরাগী গোষ্ঠী ছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের স্বকীয়তার মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন পাড়ায়। তাঁর সহকর্মী কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং অভিনয়শিল্পীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন। মাত্র অল্প বয়সে এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। অনেক অনুরাগী লিখেছেন, ‘হাসিখুশি কারিনা এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন ভাবিনি।’

আইনি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আনা হবে জানা গেছে। কারিনা কায়সারের এই চলে যাওয়া ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর অগুনতি ভক্তের মাঝে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার আর নেই

আপডেট সময় : ১২:৫৮:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

নিভে গেল এক উজ্জ্বল প্রাণ। লিভারের দুরারোগ্য ব্যাধির সঙ্গে লড়াই করছিলেন তরুণ অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার। উন্নত চিকিৎসার আশায় তাঁকে নেয়া হয়েছিল ভারতের চেন্নাইয়ে। জানা যায়, তাঁর ভাই করিনাকে লিভার ডোনেট করবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন করিনা (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তাঁর মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কারিনার বাবা, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি জানান, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।’

গণমাধ্যমকে কায়সার হামিদ বলেন, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর ডাক্তাররা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওকে আর বাঁচানো গেল না।

কয়েক দিন ধরেই লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা কায়সার। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ভারতের চেন্নাই নেয়া হয়। সেখানে ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার ফুসফুসের চিকিৎসা শুরু করেন। পরে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন কারিনা। পরে তার শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ ও ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং পরে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা। বাংলাদেশে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে চেন্নাইয়ের সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত কয়েক দিন ধরে তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভক্ত ও সহকর্মীরা তাঁর আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করলেও শেষ পর্যন্ত আর ফেরা হলো না কারিনার।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনা কায়সার ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত মুখ। বিশেষ করে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় এবং জীবনধর্মী কনটেন্ট দর্শকদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ছিল। ইউটিউব এবং ফেসবুকে তাঁর বিশাল অনুরাগী গোষ্ঠী ছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের স্বকীয়তার মাধ্যমে তিনি জায়গা করে নিয়েছিলেন তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে চরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’, ‘৩৬-২৪-৩৬’।

কারিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন পাড়ায়। তাঁর সহকর্মী কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং অভিনয়শিল্পীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছেন। মাত্র অল্প বয়সে এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। অনেক অনুরাগী লিখেছেন, ‘হাসিখুশি কারিনা এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন ভাবিনি।’

আইনি ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আনা হবে জানা গেছে। কারিনা কায়সারের এই চলে যাওয়া ডিজিটাল কনটেন্ট জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাজের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর অগুনতি ভক্তের মাঝে।