মার্কিন-ইরান যুদ্ধ লাখ লাখ মানুষকে খাদ্য সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শুক্রবার (৫ জুন) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজারে এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গভীর সংকট তৈরি করছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসেই ডব্লিউএফপি একটি পূর্বাভাস দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, জুনের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারে বজায় থাকে, তবে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন (৪.৫ কোটি) মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়বে। সংস্থাটি জানায়, সেই পূর্বাভাস এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মূল্যসূচক অনুযায়ী বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম এখন পর্যন্ত কিছুটা কম বাড়লেও, অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে ইতিমধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।
ডব্লিউএফপি আরও জানায়, এই সংকট জ্বালানি তেল, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয়ের ওপর আঘাত এবং বাণিজ্য স্থবিরতার মাধ্যমে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশগুলোর আগে থেকে থাকা অভ্যন্তরীণ সংকটগুলোর সাথে এই নতুন নিয়ামকগুলো যুক্ত হয়ে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বিশ্ব তেলের বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে এই সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য, খাদ্যসংকট, কর্মসংস্থান ও আয় হ্রাস এবং বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার কারণে আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
সোমালিয়া: ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ (প্রায় ৬৫ লক্ষ) তীব্র ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে। ডব্লিউএফপির প্রাক্কলন অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ২০২৬ সালে সোমালিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৪৭ শতাংশ।
আফগানিস্তান: যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশটিতে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ মানুষ খাদ্য ঝুঁকিতে ছিল। চলমান সংকটের কারণে নতুন করে আরও ২৩ লক্ষ মানুষ খাদ্যহীনতায় পড়তে পারে, যার ফলে মোট ভুক্তভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১ কোটি ৭৪ লক্ষে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তান ও সোমালিয়া উভয় দেশই আমদানিকৃত জ্বালানি ও খাদ্যের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল।
শ্রীলঙ্কা: অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এই দ্বীপরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ লক্ষ মানুষ তাদের মৌলিক খাদ্যের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও এখন দ্বিমুখী সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর পরিচালন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে তহবিলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এর ফলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ লক্ষ কম মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে পারবে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই সংঘাত যদি আরও ছয় মাস স্থায়ী হয়, তবে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে ৯০ লক্ষেরও বেশি মানুষ জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা

























রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী